স্বপ্নের ট্রফি হাতে দেশে ফেরা, আর সেই আনন্দকে ঘিরে উৎসবের আমেজ- সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের জন্য শনিবারের সন্ধ্যাটা যেন রঙিন হয়ে উঠেছিল। মালদ্বীপ জয় করে ফেরা তরুণ ফুটবলারদের বরণ করতে বিমানবন্দর থেকেই শুরু হয় উচ্ছ্বাস, যা পরে ছাদখোলা বাসের যাত্রায় রূপ নেয় এক অনন্য উদযাপনে।
টাইব্রেকারের শেষ শটে রোনান সুলিভানের গোলেই নিশ্চিত হয় শিরোপা। সেই জয়ের রেশ নিয়ে শনিবার সন্ধ্যার ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় দল। অবতরণের পরপরই চ্যাম্পিয়নদের স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। নিজেও একসময় জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে সাফ জয়ের অভিজ্ঞতা থাকা এই ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ফুল দিয়ে বরণ করেন দলের অধিনায়ক মিঠু চৌধুরীকে। এ সময় বাফুফের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে এবারই প্রথম পুরুষ দলের জন্য ছাদখোলা বাসের আয়োজন করা হয়েছে। আগে ২০২২ সালে সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর নারী দল প্রথম এই সম্মান পায়, পরে আরও দুবার একইভাবে সংবর্ধিত হয় তারা। সেই ধারায় এবার যুক্ত হলো অনূর্ধ্ব-২০ দলও। বিমানবন্দর থেকে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা ছাদখোলা বাসে করে খেলোয়াড়দের নিয়ে যাওয়া হয় হাতিরঝিল এম্ফিথিয়েটারে, যেখানে তাদের জন্য আয়োজন করা হয়েছে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।
চ্যাম্পিয়ন দলের এই যাত্রা শুধু উদযাপনেই সীমাবদ্ধ নয়, এর পেছনে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম আর ত্যাগের গল্পও। সাফে সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার জেতেন বাংলাদেশের মাহিন। এ ব্যাপারে দলের গোলরক্ষক কোচ বিপ্লব ভট্টাচার্য স্মরণ করিয়ে দেন সেই পথচলার কথা। তিনি বলেন, ‘মাহিন বলতে গেলে আমার হাতে গড়া। ও খুব টেলেন্টেড গোলকিপার। আর কিছু কাজ ওকে করতে হবে, সেটা ফুলফিল হলে ও এক সময় দেশের সেরা গোলকিপার হবে- এটা আমার বিশ্বাস। ২০২১ থেকে ২০২৩ এই দুই বছর ও আমার তত্ত্বাবধানে ছিল। অনূর্ধ্ব-১৬ দলে থাকাকালীনও আমি ওকে ট্রেনিং করিয়েছি।’
সাফ জয়ের অনুভূতি জানাতে গিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘সাফের এই জার্নিটা ছিল সত্যিই অসাধারণ। আমরা ঈদের দিন দেশ ছেড়ে মালদ্বীপে এসেছি। আমরা কেউ ঈদ করতে পারিনি। শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল চ্যাম্পিয়ন ট্রফি নিয়ে দেশে ফেরার। আমরা এখন ট্রফি নিয়ে মালদ্বীপের এয়ারপোর্টে আছি। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন যেন আমরা সুস্থভাবে দেশে ফিরতে পারি।’
এই সাফল্যের পথে কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতাও ছিল। গ্রুপপর্বে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে মালদ্বীপের কিছু দর্শকের কাছ থেকে কটূক্তির শিকার হতে হয়েছিল বিপ্লবকে। তবে ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে জয় পাওয়ার পর সেই দর্শকরাই তার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, দর্শকদের আবেগই ফুটবলের প্রাণ, এসব ঘটনা খেলার অংশ হিসেবেই দেখেন তিনি।
সব মিলিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ দলের এই সাফল্য শুধু একটি ট্রফি জয় নয়, এটি ভবিষ্যতের সম্ভাবনারও বার্তা। আর সেই সম্ভাবনাকেই উৎসবের রঙে রাঙিয়ে বরণ করে নিল বাংলাদেশ।
সময়ের আলো/আআ