রোনান সুলিভান যেন সিজারের সেই ভিনি ভিডি ভিসি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

খেলা

দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে আবারও শ্রেষ্ঠত্বের পতাকা উড়াল বাংলাদেশ। টাইব্রেকারের সেই শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্ত, যেখানে একটি গোল মানেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো অনূর্ধ্ব-২০

2026-04-05T05:48:16+00:00
2026-04-05T05:48:16+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
খেলা
রোনান সুলিভান যেন সিজারের সেই ভিনি ভিডি ভিসি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৮ এএম 
রোনান সুলিভান। সংগৃহীত ছবি
দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে আবারও শ্রেষ্ঠত্বের পতাকা উড়াল বাংলাদেশ। টাইব্রেকারের সেই শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্ত, যেখানে একটি গোল মানেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়। বল হাতে এগিয়ে এলেন ১২ নম্বর জার্সিধারী তরুণ রোনান সুলিভান। মালদ্বীপের মালে স্টেডিয়ামে গ্যালারি ভর্তি হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশির বুক দুরুদুরু কাঁপছে। 

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি রোনান ছিলেন একেবাইে শান্ত। আলতো ছোঁয়ায় তিনি যে ‘পানেনকা’ শটটি নিলেন, তা ভারতীয় গোলরক্ষককে সম্পূর্ণ পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে গেল। মুহূর্তেই মালের জাতীয় স্টেডিয়াম পরিণত হয় এক টুকরো বাংলাদেশে। রোনান যেন জুলিয়াস সিজারের সেই বিখ্যাত উক্তি ভিনি ভিডি ভিসি। এলেন, দেখলেন এবং জয়ও করলেন।
ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার এই দৃশ্যটি দূর থেকে দেখলে মনে হতে পারে এটি বুঝি ঢাকার কোনো মাঠ। 

মালদ্বীপের মাটিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এমন বাঁধভাঙা জোয়ারে সিক্ত হলো লাল-সবুজের যুবারা। আর এই জয়ের মহাকাব্যে সবচেয়ে বড় চমক হয়ে রইলেন রোনান সুলিভান- এক প্রবাসী বাংলাদেশি ফুটবলার, যিনি মাত্র কয়েক মাস আগেও জানতেন না যে তিনি নিজের শেকড়ের টানে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে মাঠ মাতাবেন।

রোনানের সেই ঐতিহাসিক শটটি ফুটবল বিশ্বে ‘পানেনকা’ নামে পরিচিত, যার প্রবর্তক ছিলেন ১৯৭৬ সালের চেকোসেøাভাকিয়ার আন্তোনিন পানেনকা। একদম গোলরক্ষক বরাবর আলতো চিপ করে মারা এই শটটি নিতে অসীম কলিজার প্রয়োজন হয়। 

রোনান যখন এই সাহস দেখাচ্ছিলেন, সুদূর আমেরিকায় বসে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের ড্রেসিংরুম থেকে তার বড় ভাই কুইন সুলিভান চিৎকার করে হয়তো বলেছিলেন, ‘চিপ ইট!’ যেন ভাইয়ের সেই ডাক আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে রোনানের কানে পৌঁছে গিয়েছিল। পুরো টুর্নামেন্টে দুটি গোল আর একটি অ্যাসিস্ট করে রোনান আগেই নিজের জাত চিনিয়েছিলেন, আর ফাইনালের সেই শটে তিনি হয়ে গেলেন অমর।

শিরোপা জয়ের এই পথে অতন্দ্র প্রহরী হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন মাহিন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে কোনো দলই জালের দেখা পায়নি। পেনাল্টি শুটআউটে ভারতের প্রথম শটটি বাজপাখির মতো রুখে দিয়ে মাহিনই মূলত বাংলাদেশকে জয়ের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেন। তার সেই সেভ পুরো দলের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে পৌঁছে দিয়েছিল।

সুলিভান ভাইদের এই বাংলাদেশ সংযোগের গল্পটিও বেশ রোমাঞ্চকর। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের এক সোশ্যাল মিডিয়া ভিডিওতে কুইন সুলিভানকে দেখা গিয়েছিল প্রবাসী এক বাংলাদেশির ‘লবঙ্গ কাবাব অ্যান্ড ক্যাফে’তে বসে নান আর মাংসের ঝোল তৃপ্তি করে খেতে। সেখানেই তিনি প্রথম জানিয়েছিলেন তার নানির কথা। পরে জানা যায়, তাদের নানি সুলতানা আলম ছিলেন ঢাকার মেয়ে, যিনি পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পিএইচডি অর্জন করেন এবং জাতিসংঘে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এমনকি তিনি বাংলাদেশের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাও ছিলেন। তিনি বিয়ে করেছিলেন জার্মান অধ্যাপক ক্লাউস ক্রিপেনডর্ফকে।

সুলিভান পরিবারের রক্তেই যেন ফুটবল মিশে আছে। বাবা ব্রেন্ডান সুলিভান ছিলেন পেশাদার ফুটবলার, মা হেইকে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় দলের অধিনায়ক। চার ভাইয়ের মধ্যে কুইন সুলিভান এখন লিওনেল মেসির লিগে (এমএলএস) খেলছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখছেন। 

কনিষ্ঠ ভাই ক্যাভানকেও মনে করা হয় আমেরিকার আগামীর মহাতারকা। অথচ তাদেরই দুই ভাই যমজ রোনান ও ডেকলান সুলিভান বেছে নিয়েছেন তাদের নানির দেশ বাংলাদেশকে। শিকড়ের টানে সুদূর প্রবাস থেকে এসে লাল-সবুজ জার্সিতে এই সাফল্য ফুটবলের প্রতি তাদের নিখাদ ভালোবাসা আর পূর্বপুরুষের ভিটার প্রতি এক অনন্য শ্রদ্ধার স্মারক হয়ে থাকবে।

সময়ের আলো/আআ



  বিষয়:   রোনান সুলিভান  সিজার  ফুটবল 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: