বাঙালি জাতির বছরজুড়ে প্রতীক্ষার দিন পহেলা বৈশাখ। এদিন আকাশে-বাতাসে সুরের মূর্ছনায় ভেসে আসে, ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো।’ বাংলা বছরের সূচনা হয় বৈশাখ দিয়ে। তপ্ত আকাশের দিকে চেয়ে অনেকে গেয়ে উঠেন, ‘মেঘবিহীন খর বৈশাখে।’ তবু সবার কাছে প্রিয় এই পহেলা বৈশাখ। প্রতি বছর দিনটি জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে একসঙ্গে উদযাপিত হয়। আর এখানেই যেন ফুটে উঠে অফুরন্ত মিলনমেলা।
পহেলা বৈশাখের অন্যতম অনুষঙ্গ মেলা। এখন তালপাতার বাঁশি আগের মতো সহজে না মিললেও বাঁশির সুরের প্রতিধ্বনি শোনা যায় মেলাজুড়ে। প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে আয়োজন থাকছে বৈশাখী মেলার। তবে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের মেলা সবার কাছেই বিশেষ আকর্ষণ। ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই বৈশাখী মেলা চলবে সাত দিন, অর্থাৎ ২০ এপ্রিল পর্যন্ত।
বাংলা একাডেমির বৈশাখী মেলার পাশাপাশি এবার আরও অনেক স্থানে আলাদাভাবে মেলার আয়োজন হবে বলে জানা গেছে। পহেলা বৈশাখের আগেই মেলার আয়োজন করছে এসএমই ফাউন্ডেশন। আগামী ৯ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে টানা ছয় দিন। ১৪ এপ্রিল শেষ হবে এই আয়োজন। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত মেলায় তিন শতাধিক দেশীয় পণ্যের স্টল থাকবে বলে জানিয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশন। বৈশাখের আবহে মেলায় থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও।
বৈশাখী মেলার আয়োজন রয়েছে আরও কয়েকটি স্থানে। পুরান ঢাকার চকবাজারসহ উইন্টার গার্ডেন ও রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুমে থাকবে বৈশাখী মেলার আয়োজন। সেখানে নাচ-গানের পাশাপাশি নাগরদোলার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এই মেলায় জনপ্রতি প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৫০০ টাকা।
মিরপুরের দ্য রিভার এজ রেস্তোরাঁয় চার দিনের বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া আগারগাঁওয়ের এয়ার ফোর্স বেইজ ক্যাম্পে ১৪ এপ্রিল দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন
থাকবে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে নানা আয়োজন। এর মধ্যে থাকবে বায়োস্কোপ, মেহেদি উৎসব, ক্যারিকেচার, বাউল গান, লাটিম, মার্বেল, দাঁড়িয়াবান্ধা, লুডু, ক্যারাম ইত্যাদি। পাশাপাশি বাঙালি ঐতিহ্যবাহী খাবারের ব্যবস্থাও থাকবে বলে জানা গেছে।