তিন দেশের সমন্বিত আক্রমণে দিশাহারা ইসরাইল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে তারা সাময়িক বিরতি নয়, স্থায়ী সমাধান চায়। চলমান আগ্রাসনের ৩৮তম

2026-04-07T01:08:56+00:00
2026-04-07T01:08:56+00:00
 
  শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
তিন দেশের সমন্বিত আক্রমণে দিশাহারা ইসরাইল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৮ এএম 
সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে তারা সাময়িক বিরতি নয়, স্থায়ী সমাধান চায়। চলমান আগ্রাসনের ৩৮তম দিনে সোমবার ইসরাইলে সমন্বিত হামলা চালিয়েছে ইরান, ইয়েমেন ও লেবানন। পাল্টা হামলা হয়েছে ইরানের প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আর পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে। পরমাণু কেন্দ্রের কাছে হামলার ঘটনায় তেজস্ক্রিয় বিপর্যয়ের শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। 

এর মধ্যে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর গোয়েন্দাপ্রধান নিহত হওয়ার খবর এবং কুদস ফোর্সের আরেক শীর্ষ নেতাকে হত্যার দাবি পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল করেছে। এদিকে নিখোঁজ মার্কিন পাইলট উদ্ধারের ঘটনা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চুরির চেষ্টা’র অভিযোগ তুলেছে তেহরান। 

বর্তমান সংঘাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো যুদ্ধবিরতি নিয়ে জটিল কূটনৈতিক তৎপরতা। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সংঘাত থামাতে একটি কাঠামোবদ্ধ প্রস্তাব সামনে আনছে, অন্যদিকে ইরান সেটিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দাবি তুলছে। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে একটি সম্ভাব্য ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে। এই প্রস্তাবটি দুই ধাপে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। প্রথম ধাপে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি আর দ্বিতীয় ধাপে দীর্ঘমেয়াদি একটি রাজনৈতিক সমঝোতা। এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছে। দেশটির সেনাপ্রধান সারা রাত যোগাযোগ রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিনিধি, বিশেষ দূত এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে।

তবে ইরান শুরু থেকেই এই প্রস্তাব নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তারা স্পষ্ট করে বলেছে, কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা চাপের মধ্যে তারা সিদ্ধান্ত নেবে না। তাদের প্রধান শর্ত হলো, এই যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নয় বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামো নতুন করে সাজাতে হবে।

ইরান আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলেছে। এর মধ্যে রয়েছে অঞ্চলের সব ধরনের সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচলের জন্য নতুন প্রোটোকল তৈরি, যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামোর পুনর্গঠন এবং তাদের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কিছুটা ভিন্ন। তারা দ্রুত যুদ্ধবিরতি চায়, বিশেষ করে তেলের বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতির চাপ কমানোর জন্য। তবে একই সঙ্গে তারা ইরানের ওপর সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ বজায় রাখতে চাইছে। 

প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক বক্তব্যে দেখা গেছে, কূটনীতির পাশাপাশি সামরিক হুমকিও সমানভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরান যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেনি। 

তারা বলছে, স্থায়ী সমাধান ছাড়া কোনো অস্থায়ী সমঝোতা অর্থহীন। অর্থাৎ তারা সময় নিয়ে, নিজেদের শর্তে, একটি বড় ধরনের কৌশলগত চুক্তি চায়।

এই টানাপড়েনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠছে। কারণ কূটনৈতিক অগ্রগতি যত ধীর হচ্ছে, মাঠের লড়াই তত তীব্র হচ্ছে। ফলে যুদ্ধবিরতি এখনও বাস্তবতার চেয়ে আলোচনার টেবিলেই বেশি সীমাবদ্ধ।

আলজাজিরার খবরে বলা হয়, ইসরাইলের ওপর সর্বশেষ আক্রমণ ছিল একযোগে তিনটি ফ্রন্ট থেকে পরিচালিত ইরান, লেবানন এবং ইয়েমেন। রাজধানী জেরুজালেম, তেল আবিব এবং দক্ষিণাঞ্চলের এইলাত শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পরপরই সাইরেন বেজে ওঠে এবং নাগরিকদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আকাশে প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বাধা দেওয়ার প্রচেষ্টা চললেও বহু ক্ষেপণাস্ত্র ভেদ করে শহরাঞ্চলে আঘাত হানে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, তারা এই সমন্বিত হামলায় অংশ নিয়েছে এবং ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

ইসরাইলি জরুরি পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ২৮টি স্থানে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। রামাত গান, বেনি ব্রাক এবং গিভাতাইমে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক স্থানে ভবন ধসে পড়েছে এবং রাস্তা ধ্বংস হয়েছে। তেল আবিব অঞ্চলে গোলাবারুদ পড়ে চারজন আহত হয়েছেন। হাইফায় একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মধ্য ইসরাইলে অন্তত দুজন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে এক নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। 

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অনেক আহত ব্যক্তি আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় পড়ে গিয়ে বা ধাক্কায় আঘাত পেয়েছেন।

এ ছাড়া ক্লাস্টার বোমা ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, যা একটি বড় এলাকাজুড়ে ছোট ছোট বিস্ফোরণ ঘটায়। এর ফলে হতাহতের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়। সামরিক বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং নাগরিকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এই বহুমুখী হামলা ইসরাইলের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে এবং দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

আলজাজিরার খবরে বলা হয়, ইরান শুধু ইসরাইলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের লক্ষ্য করে সমন্বিত আক্রমণ চালাচ্ছে। কুয়েতের তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার ফলে আগুন লাগে এবং উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। উত্তর কুয়েতে হামলায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।

বাহরাইনের রাসায়নিক কারখানায় ড্রোন হামলার পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে, যদিও দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের আকাশে একযোগে ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৯টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে। এসব হামলা প্রতিহত করতে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই কৌশলগত হামলার লক্ষ্য হলো পুরো অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ আঘাত করা। এর ফলে উপসাগরীয় দেশগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার ঘটনাও এই উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এই হামলাগুলো দেখাচ্ছে যে যুদ্ধ এখন আর সীমিত নেই; এটি পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এবং যেকোনো সময় আরও বড় আকার নিতে পারে।

আলজাজিরার খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে। তেহরানের শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় হামলায় গ্যাস স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মসজিদের অংশ ভেঙে গেছে।

দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে, যা ইরানের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের জন্য বড় ধাক্কা। আসালুয়েহ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে হামলায় বিদ্যুৎ, পানি ও অক্সিজেন সরবরাহকারী স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে পুরো উৎপাদনব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই হামলাগুলোর ফলে শিল্প উৎপাদন, জ্বালানি সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল করার একটি কৌশল।

এদিকে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা ভয়াবহ তেজস্ক্রিয় দুর্ঘটনার সতর্কতা দিয়েছে। আলজাজিরার খবরে বলা হয়, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা সতর্ক করেছে। একটি ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রটির সীমানা থেকে মাত্র ৭৫ মিটার দূরে আঘাত হেনেছে।

সংস্থাটি বলেছে, সামান্য ভুল বা সরাসরি আঘাত ভয়াবহ তেজস্ক্রিয় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হবে।

আলজাজিরার খবরে বলা হয়, আইআরজিসির গোয়েন্দাপ্রধান মেজর জেনারেল সাইয়্যেদ মজিদ খাদেমি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে কুদস ফোর্সের আন্ডারকভার ইউনিটের প্রধান আসগর বাকেরিকে হত্যার দাবি করেছে ইসরাইল। এই ধরনের টার্গেটেড হত্যাকাণ্ড যুদ্ধকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে গেছে। কারণ এটি সরাসরি নেতৃত্ব ও গোয়েন্দা কাঠামোকে লক্ষ্য করছে। এতে প্রতিশোধমূলক হামলার সম্ভাবনা আরও বাড়ছে।

উদ্ধার অভিযান ও ইউরেনিয়াম বিতর্ক : যুদ্ধের মাঝেই একটি নাটকীয় ঘটনা সামনে এসেছে মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারের অভিযান। যুক্তরাষ্ট্র এটিকে তাদের সামরিক দক্ষতার এক বড় উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে। কিন্তু ইরান এই পুরো ঘটনাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করছে, যা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তাদের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর ক্রু সদস্য নিখোঁজ হন। এরপর বিশেষ বাহিনী একটি জটিল উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তাকে ফিরিয়ে আনে। এই অভিযানে একাধিক যুদ্ধবিমান অংশ নেয় এবং কয়েক ঘণ্টা ধরে ইরানের আকাশসীমার ভেতরে অবস্থান করে।

উদ্ধার হওয়া ওই কর্মকর্তা একজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা, যিনি আহত হলেও বর্তমানে নিরাপদ আছেন বলে দাবি করা হয়েছে। পুরো ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র ‘অসাধারণ সাহসিকতা’ এবং ‘দক্ষ পরিকল্পনার’ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছে। কিন্তু ইরান এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ। তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, এই উদ্ধার অভিযান আসলে একটি ছদ্মবেশী সামরিক অপারেশন হতে পারে। তাদের অভিযোগ এই অভিযানের আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে সংবেদনশীল কিছু সংগ্রহের চেষ্টা করেছে, যার মধ্যে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামও থাকতে পারে।



  বিষয়:   যুক্তরাষ্ট্র  যুদ্ধবিরতি  ইরান  ইয়েমেন  লেবানন 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: