আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, গুমের বিচারের জন্য পৃথক অধ্যাদেশ ‘অপ্রয়োজনীয়’ ছিল এবং বিদ্যমান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনেই এ অপরাধের বিচারের ‘পর্যাপ্ত এখতিয়ার’ রয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পৃথক ‘গুম অধ্যাদেশ’ বাতিল করে জাতীয় সংসদে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালস (সংশোধন) বিল’ পাস হওয়ার প্রেক্ষিতে এক প্রতিক্রিয়ায় প্রসিকিউশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
এ দিন সংসদ অধিবেশনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে গুমকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গুম অধ্যাদেশের আওতাধীন যে অপরাধটি ছিল, ইতোমধ্যে ট্রাইব্যুনাল আইনে সেটি সংবিধিবদ্ধ ছিল। এ আইনে গুমের অভিযোগ বিচারের এখতিয়ার ছিল, সেখানে আরেকটি আইন করে আরেকটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করার প্রয়োজনীয়তা ছিল বলে আমার কাছে মনে হয়নি। অর্থাৎ গুমের বিচার ট্রাইব্যুনাল আইনেই সম্ভব।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গুম অধ্যাদেশ যদি বাতিল হয়ে থাকে এবং ট্রাইব্যুনাল আইনের সঙ্গে ট্যাগ করে দেওয়া হয়, তাহলে আইনমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
তিনি আরও বলেন, ট্রাইব্যুনাল আইনের সঙ্গে একীভূত হওয়াটা ভালো কাজ হয়েছে। এটি সঠিক ও যথার্থ হয়েছে বলেও মনে করেন চিফ প্রসিকিউটর।
গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর পক্ষ থেকে পাওয়া অভিযোগ প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে ৭১টি আবেদন পেলেও সংগঠনের দাবি অনুযায়ী প্রায় ১০১টি অভিযোগ রয়েছে। এত বিপুলসংখ্যক ভুক্তভোগীর তদন্ত করা সময়সাপেক্ষ বিষয়। কারণ এই অপরাধগুলো দীর্ঘ সময় ধরে সংঘটিত হয়েছে এবং অনেক গোপনীয়তা এর সঙ্গে জড়িত।
তদন্তের কৌশলগত কারণে সব তথ্য প্রকাশ করা ‘সম্ভব নয়’ জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে আশ্বস্ত করেছি, আগামী এক মাসের মধ্যে দৃশ্যমান ও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আমরা দেখাতে পারব। প্রতিটি অভিযোগ আমরা আলাদাভাবে তদন্ত করছি।
ট্রাইব্যুনালে জনবল ও অবকাঠামো সংকটের কথা জানিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, সারাদেশ থেকে কয়েক হাজার অভিযোগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান জনবল নিয়ে আমাদের ওপর ব্যাপক কাজের চাপ রয়েছে। প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।
সময়ের আলো/জেডআই