দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। তবে সে সিদ্ধান্ত না মেনে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলা চালিয়েছে তেহরান। (বুধবার ৮ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই হামলার ফলে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির একমাত্র বিকল্প পথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সৌদি আরব তাদের তেলের খনিগুলো থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর পর্যন্ত তেল পরিবহনে পাইপলাইনটি ব্যবহার করছিল। সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, বুধবারের এই হামলায় পাইপলাইনের প্রবাহ ব্যাহত হতে পারে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। তবে এ ঘটনা বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ওই অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে ইয়ানবু বন্দরে মার্কিন কোম্পানিগুলোর তেল স্থাপনাও রয়েছে বলে তারা দাবি করেছে। তবে হামলার সঠিক সময় এবং পাইপলাইনের কার্যক্রমের ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে সৌদি আরামকো বা সরকার থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি করা সম্ভব। মার্চ মাসের শিপিং ডেটা অনুযায়ী, ইয়ানবু বন্দর থেকে প্রায় ৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি করা হয়েছিল। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার পরও এই পাইপলাইনের কারণে সৌদি আরব আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছিল এবং গত বছরের তুলনায় তাদের তেলের আয় বেশি ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এই হামলা এই পাইপলাইনকে বড় ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সময়ের আলো/আআ