যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তে তেহরানে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস

সময়ের আলো ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরপরই তেহরানে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়তে দেখা গেছে সেখানকার সাধারণ মানুষকে। তেহরানের রাস্তায় যে দৃশ্য

2026-04-09T00:54:14+00:00
2026-04-09T04:14:57+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তে তেহরানে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫৪ এএম  আপডেট: ০৯.০৪.২০২৬ ৪:১৪ এএম
ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সামনে ইরানে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ। ছবি : সিএনএন
দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরপরই তেহরানে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়তে দেখা গেছে সেখানকার সাধারণ মানুষকে। তেহরানের রাস্তায় যে দৃশ্য দেখা গেছে, তা অনেকটা বিজয় উৎসবের মতো। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। তারা ইরানের পতাকা হাতে স্লোগান দেয় এবং যুদ্ধবিরতির ঘোষণা উদযাপন করে। এ ছাড়া ইরাক ও কাশ্মিরেও যুদ্ধবিরতি সিদ্ধান্ত উদযাপন করা হয়েছে। 

তেহরানে উদযাপন : ইসলামিক রেভল্যুশন স্কয়ার এলাকায় মানুষের ভিড় ছিল সবচেয়ে বেশি। সেখানে অনেকেই সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনির পোস্টার হাতে নিয়ে স্লোগান দেয়। কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পতাকা পুড়িয়ে প্রতিবাদও জানায়। এই উল্লাসের পেছনে শুধু যুদ্ধ থামার স্বস্তি নয়, একটি রাজনৈতিক বার্তাও আছে। অনেকেই মনে করছেন, তারা একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে টিকে থাকতে পেরেছে। এই অনুভূতিই তাদের রাস্তায় নামিয়েছে। সরকারও এই আবেগকে উৎসাহ দিচ্ছে। তারা বলছে, এই ফল এসেছে জনগণের ঐক্য ও ধৈর্যের কারণে।

বাগদাদে আঞ্চলিক স্বস্তির প্রতিধ্বনি : ইরাকের রাজধানী বাগদাদেও একই ধরনের দৃশ্য দেখা গেছে। আলজাজিরার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মানুষ রাস্তায় নেমে যুদ্ধবিরতি উদযাপন করছে। 

কাশ্মিরে উদযাপন : কাশ্মিরেও যুদ্ধবিরতি উপলক্ষে মানুষ রাস্তায় নেমেছে। সেখানে মিছিল, স্লোগান এবং উদযাপনের দৃশ্য দেখা গেছে। কাশ্মির সরাসরি এই সংঘাতের অংশ নয়। কিন্তু দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অনিশ্চয়তার অভিজ্ঞতার কারণে এখানকার মানুষ যুদ্ধবিরতির গুরুত্ব খুব ভালোভাবে বোঝে। 

অনেকের কাছে এই উদযাপন ছিল প্রতীকী। তারা দেখাতে চেয়েছে- যুদ্ধ থামলে মানুষের জীবন স্বাভাবিক হতে পারে। এই কারণে দূরবর্তী একটি সংঘাতের যুদ্ধবিরতিও তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

যুদ্ধবিরতির স্বস্তি, কিন্তু স্থায়ী নয় : যদিও রাস্তায় উৎসব, বাস্তবতা এখনও অনিশ্চিত। আলজাজিরা জানাচ্ছে, এই যুদ্ধবিরতি মাত্র দুই সপ্তাহের জন্য। এই সময়ের মধ্যে আলোচনা হবে, কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান এখনও হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হবে। তবে এটি ইরানি সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকবে। অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও বিতর্ক চলছে। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা ট্রাম্পের বক্তব্য ও আচরণের সমালোচনা করছেন। তারা এমনকি তাকে অপসারণের দাবিও তুলছেন। এই সবকিছু মিলিয়ে বোঝা যায়, যুদ্ধ থামলেও রাজনৈতিক ও কৌশলগত টানাপড়েন এখনও শেষ হয়নি।

উদযাপনের আড়ালে বার্তা : তেহরান, বাগদাদ বা কাশ্মির- এই তিন জায়গার উদযাপন একরকম নয় কিন্তু একটি জায়গায় মিল আছে। সবাই যুদ্ধ থামার মুহূর্ত স্বাগত জানিয়েছে। তবে এই উদযাপনের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন বার্তা লুকিয়ে আছে। তেহরানে এটি প্রতিরোধের গর্ব। বাগদাদে এটি নিরাপত্তার স্বস্তি। কাশ্মিরে এটি শান্তির আকাক্সক্ষা। 

সময়ের আলো/কেএইচও


  বিষয়:   যুদ্ধবিরতি  তেহরান  উচ্ছ্বাস 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: