জমির নিবন্ধন কর কমিয়ে যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনলে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে। তাই জমির নিবন্ধন কর কমানোর দাবি জানিয়েছে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। একই সঙ্গে গেইন কর, স্ট্যাম্প শুল্ক ও সব ফ্ল্যাটে ২ শতাংশ মূসক ধার্য করার দাবি তুলেছে সংগঠনটি। বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব দাবি জানান রিহ্যাব নেতারা।
সভায় আবাসন ও নির্মাণ সংশ্লিষ্ট আরও ১২টি সংগঠন তাদের বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরে। তাদের এসব প্রস্তাব বিবেচনার আশ্বাস দেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। আলোচনায় রিহ্যাবের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান ও সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়াসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রিহ্যাবের সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ভবন নির্মাণ ও জমি উন্নয়ন উভয় ক্ষেত্রেই আমাদের মূসক দিতে হয়। তবে নিবন্ধন খরচ কমানোর বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, জমির নিবন্ধন খরচ বিক্রেতার দেওয়ার কথা। কিন্তু এখানে ক্রেতার ওপর এটা চাপানো হয়।
বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে টাইলসকে বিলাসবহুল পণ্যের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানানো হয়। সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, এখন সম্পূরক শুল্ক দিতে হয় ১৫ শতাংশ। এটা উঠিয়ে দিলে মূসক ফাঁকি কমে আসবে।
বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন সরেজমিন দেখে তারপর মৌজা মূল্য নির্ধারণের দাবি জানায়। সংগঠনটির সচিব একেএম নওশেরুল আলম বলেন, আমাদের প্রতি শতাংশ জমিতে দেড় লাখ টাকা উৎসে কর দিতে হয়। এটি উঠিয়ে দিয়ে দলিলমূল্যের ওপর ৩ শতাংশ হারে নির্ধারণ করা যায়।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে এলডিসি উত্তরণ সামনে রেখে নীতি সহায়তার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে রাসায়নিক দ্রব্য আমদানিতে শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএলএলইএ) এবং প্লাস্টিক ও রাবার জুতা মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন তাদের বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরে।
সময়ের আলো/কেএইচও