বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই ফলাফল বিবরণীতে প্রার্থীর এজেন্টদের স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে শহরের মালতীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগের পর ওই রেজাল্ট শিট ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে ৩৬ নম্বর মালতীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. নুরুল ইসলাম ভোট গ্রহণের শুরুতেই রেজাল্ট শিটে এজেন্টদের স্বাক্ষর নিতে শুরু করেন।
বিষয়টি জানাজানি হলে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ জানান। খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাসওয়ার তানজামুল হক ওই কেন্দ্রে উপস্থিত হন। তার উপস্থিতিতেই বিতর্কিত ওই স্বাক্ষরিত রেজাল্ট শিটটি ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং নতুন রেজাল্ট শিট প্রস্তুত করা হয়। বর্তমানে ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে চলছে বলে জানা গেছে।
এদিক রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি বিশেষ দলকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল। বেলা সাড়ে ১১টায় দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আবিদুর রহমান সোহেল অভিযোগ করেন, শুধু মালতীনগর নয়, সিটি স্কুল কেন্দ্রেও একইভাবে পোলিং ও প্রিজাইডিং অফিসাররা আগেভাগে ব্যালট পেপারে স্বাক্ষর করে রেখেছেন। তিনি বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফজলুল করিম বিশেষ একটি দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করছেন এবং তাদের সুবিধা দিচ্ছেন।
জামায়াত প্রার্থীর দাবি, পুলিশ ও জেলা প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকলেও রিটার্নিং কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ। কোনো ধরনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বা পাতানো নির্বাচন মেনে নেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে এসব অনিয়মের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফজলুল করিম বলেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে কমিশন বদ্ধপরিকর। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আর নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সময়ের আলো/আআ