বিএনপির কর্মী মকবুল হত্যার অভিযোগে পল্টন মডেল থানার মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফের তিন দিনের মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রট আদালতে তাকে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মতিঝিল জোনাল টিমের এসআই তোফাজ্জল হোসেন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুনরায় সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। এসময় রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী।
তিনি আদালতে বলেন, অভিযোগের সঙ্গে আসামির সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার দায়িত্বকালেই গোয়েন্দা সংস্থাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং তৎকালীন সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে তিনি ভূমিকা রেখেছেন। তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে আসামির পক্ষের আইনজীবী শাহীন মোর্শেদ রিমান্ডের আবেদন বাতিলপূর্বক জামিনের আবেদন করেন। তিনি বলেন, আসামি এরই মধ্যে তিন দফায় ১৫ দিন রিমান্ডে ছিলেন। তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। সেনাবাহিনীতে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। তার অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জামিন দেওয়া প্রয়োজন।
আদালতে নিজের বক্তব্যে শেখ মামুন খালেদ জানান, ২০২০ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন তিনি। ১৯ বছরের কর্মজীবনে একাডেমিক কার্যক্রমেই বেশি যুক্ত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস-এর উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এবং একাধিক পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
তার দাবি, আলোচিত হামলার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মো. জুনাইদ জামিনের আবেদন নাকচ করে রিমান্ডের এ আদেশ দেন। গত ২৫ মার্চ রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার নিজ বাসা থেকে শেখ মামুন খালেদকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর একদফা দাবি আদায়ের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। এর আগে ৭ ডিসেম্বর ডিবি পুলিশের হারুন অর রশীদ, মেহেদী হাসান ও বিপ্লব কুমার বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে অভিযান চালায়।
কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। কার্যালয়ের পাশে থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালায়। এতে মকবুল হোসেন নামে এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মাহফুজুর রহমান বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।