দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে পুকুর খনন করে চলাচলের রাস্তায় মাটির স্তূপ করে রাখায় অন্তত ৫০টি পরিবারের যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কয়েকটি পাড়ার সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেহা তুজ জোহরা, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুন-নবী এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ময়েন উদ্দিন শাহ।
এ সময় আগামী ৭ দিনের মধ্যে রাস্তার ওপর থেকে ৫ ফুট উঁচু মাটির স্তূপ সরিয়ে জনগণের চলাচলের পথ উন্মুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুলপুর ইউনিয়নের আন্ধারমূহা পণ্ডিতপাড়ার হবিবর রহমান নামে এক ব্যক্তি উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোলেমান আলীর যোগসাজশে নিজের জমিতে পুকুর খনন করেন। খননকৃত মাটি পুকুর পাড়ে যত্রতত্র স্তূপ করে রাখায় গত ৩০ বছর ধরে ব্যবহৃত চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে ওই এলাকার প্রায় ৫০টি পরিবারের বাসিন্দাসহ কয়েকটি পাড়ার মানুষের যাতায়াত সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আগে থেকেই পুকুর খননকারীকে রাস্তা বন্ধ না করার মৌখিক নির্দেশ দিলেও তিনি তা কর্ণপাত করেননি। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হলে সংঘাতের আশঙ্কায় প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী জমশেদ আলী বলেন, গত ১৫-১৬ দিন ধরে রাস্তা বন্ধ থাকায় আমাদের পাড়ার অটো ও ভ্যানচালকরা তাদের গাড়ি বের করতে পারছে না। মোটরসাইকেল বা সাইকেল চালানোরও উপায় নেই। বর্তমানে আমরা বিকল্প সরু রাস্তা দিয়ে অনেক ঘুরে কোনোমতে যাতায়াত করছি।
পুকুর খননকারী হাবিব জানান, আগে তার বাড়ির পাশ দিয়ে মানুষ যাতায়াত করত। সেটি পরিবর্তন করে প্রায় ২৫-৩০ বছর আগে পুকুর পাড় দিয়ে বিকল্প রাস্তা দেওয়া হয়। বর্তমানে পুকুর খননের ফলে মাটি রাখার পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় তিনি পাড়েই মাটি স্তূপ করে রেখেছেন।
ইউএনও জোহরা বলেন, জনগণের চলাচলের পথ বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা আইনত দণ্ডনীয়। পুকুর খননকারীকে ৭ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাটি সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার না করলে আইনানুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সময়ের আলো/জোই