বগুড়া-৬ এবং শেরপুর-৩ আসনে জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনে সরকারি দল বিএনপির বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ এনেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তার অভিযোগ ভোট কারচুপি করে, ফলাফল শিটে আগাম সই নিয়ে এজেন্টদের বের করে দিয়েছে সরকারদলীয় কর্মী-সমর্থকরা।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে মগবাজারে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারের অধীনে বগুড়া এবং শেরপুর দুটি আসনে আজ যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে সেখানে কিছু গুরুতর অনিয়ম- ভোট কারচুপি, জালভোট, এজেন্টদের বের করে দেওয়া, সকালেই সিটে স্বাক্ষর নিয়ে নেয়ার মতোই অনেক আপত্তিকর ঘটনা ঘটছে, যা খুবই দুঃখজনক।
তিনি বলেন, শেরপুর-৩ আসনে ইসলামিয়া কামিল মাদরাসায় একটি ভোট কেন্দ্রে জাল ভোট ঠেকাতে গেলে শ্রীবদরী পৌর বিএনপির সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ মো. দুলাল এবং পৌর আহ্বায়ক অপুর নেতৃত্বে সেই কেন্দ্রে ঢুকে আমাদের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। এটার প্রতিবাদ করায় ঐ উপজেলার জামায়াতে ইসলামীর যুব কমিটির আমির হামজাকে মারপিট করা হয়েছে। এছাড়াও দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৩টা ভোট কেন্দ্র থেকে জোর এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে।
বগুড়ায় নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি বলেন, আমি সংক্ষেপে কয়েকটি তথ্য দিচ্ছি- একটা হচ্ছে সকালেই বিভিন্ন কেন্দ্রে এজেন্টদেরকে আগেই প্রিজাইডিং অফিসার জোর করে রেজাল্ট সিটে স্বাক্ষর করে নিয়েছেন। যেটা নির্বাচনের আচরণবিধির খেলাপ। যার নিয়ম হলো ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর ফলাফল তৈরি হবে তখন রেজাল্ট সিটে সব প্রার্থীরা স্বাক্ষর করবে। মালতিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র নম্বর-১। এই কেন্দ্রে যারা আমাদের এজেন্ট ছিলেন তাদের সকালেই রেজাল্ট সিটে স্বাক্ষর নিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষরের জায়গাটা ফাঁকা রয়েছে। এরপরে জালভোট দিয়ে সিল মারা হচ্ছে এবং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, পুলিশ, সেনাবাহিনী, রিটার্নিং অফিসারকে বার বার বলার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। মনে হচ্ছে প্রশাসন অসহায়। কোনো জায়গা থেকে নির্দেশিত হয়ে তারা আর কিছু করতে পারছেন না। কেবলই এক/দেড় মাস হলো অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথা বলে জীবন দেওয়া। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া বড় দল এখন ক্ষমতায়। তাদের হাতে দুটি নির্বাচনে এই যদি চিত্র হয়, সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ আর যেসব নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে আমরা কি করে ভোটারদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন আমরা আশা করতে পারি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের প্রতি আহবান জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, যেসব কেন্দ্রে অনিয়ম হয়েছে সেখানে ভোট বন্ধ রাখুন। অন্যথায় এই ফলাফল মেনে নেওয়া হবে না। অনিয়মের সাথে জড়িত প্রিজাইডিং অফিসারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনে হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি এটিএম মা’ছুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার এবং মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দিন মোল্লা এবং প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি আতাউর রহমান সরকার।
সময়ের আলো/জেডআই