ইরানের সাথে চলমান শান্তি আলোচনায় কোনো ধরনের অযৌক্তিক ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট অত্যন্ত কঠোর ভাষায় জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া ১০-দফা পরিকল্পনাকে ‘মৌলিকভাবে অগুরুতর ও অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে গণ্য করেছেন।
লেভিট সরাসরি দাবি করেন, তেহরানের প্রস্তাবিত ওই পরিকল্পনাটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার প্রতিনিধি দল আক্ষরিক অর্থেই ‘আবর্জনার ঝুড়িতে’ ফেলে দিয়েছেন। কিছু গণমাধ্যমে এই পরিকল্পনাটি আমেরিকার জন্য গ্রহণযোগ্য বলে যে সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে, তাকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেন তিনি। ওয়াশিংটনের মতে, ইরানের এই প্রস্তাব মূলত একটি ‘উইশলিস্ট’ বা আকাঙ্ক্ষার তালিকা মাত্র, যেখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মতো বিতর্কিত ও স্পর্শকাতর বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। লেভিট একে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক ও কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, মার্কিন সামরিক শক্তির প্রচণ্ড চাপেই ইরান আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়েছে। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো ফাঁকা বুলি (ব্লাফ) দেন না; যদি ইরান চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর আঘাত হানতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না।
এদিকে রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি এখনো থমথমে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার একদিন পার হলেও বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সামরিক তৎপরতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। লেবাননে ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে ইরান পুনরায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করে দেওয়ায় উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ‘শক্তি থেকে শান্তি’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে লেভিট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজের স্বার্থ রক্ষায় আপসহীন। আলোচনার পথ খোলা থাকলেও কোনো অবস্থাতেই দুর্বলতা দেখানো হবে না। কূটনৈতিক এই টানাপোড়েন এবং সীমান্তে পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে।