দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ভোজ্য তেল বিক্রি করছে অসাধু চক্র। এ পরিপ্রেক্ষিতে দেশব্যাপী অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৪২ হাজার ১৭৩ লিটার ভোজ্য তেলের অস্বাভাবিক মজুদ শনাক্ত করেছে র্যাব। ফলে ভোজ্য তেলের এই কৃত্রিম সংকট রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
একই সঙ্গে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক এবং দেশের সব জেলা প্রশাসকদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
গত বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দেয়া হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, বাজারে ভোজ্য তেল নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার নির্ধারিত মূল্য নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ভোজ্য তেলের এই কৃত্রিম সংকট রোধ করতে দেশব্যাপী অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৪২ হাজার ১৭৩ লিটার তেল জব্দ করেছে র্যাব। একই সঙ্গে অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এ তথ্য জানান।
এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত সমন্বিত অভিযানে মোট ৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয় বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
এর মধ্যে র্যাব-৭-এর তত্ত্বাবধানে ফেনী জেলার রামপুরার তাকিয়া রোড এলাকায় যৌথ অভিযানে অবৈধভাবে মজুদ করা ৩০ হাজার লিটার ভোজ্য তেল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
নরসিংদীর সদরেও অভিযান চালিয়ে বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ ও মদিনা ট্রেডিংয়ের বিরুদ্ধে যথাক্রমে ৫ হাজার ও ২০ হাজার লিটার তেল অবৈধভাবে মজুদ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সাতক্ষীরা জেলা সদরে সাধু স্টোর ও হাজী ট্রেডার্সের মালিকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মজুদ, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ, লাইসেন্স না থাকা এবং বৈধ রসিদ প্রদর্শনে ব্যর্থতার অভিযোগে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া বাগেরহাটের চুলকাটি বাজারে মেসার্স রাজ স্টোরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০ হাজার ৪০০ লিটার তেল মজুদের প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মো. মঈনের গুদামে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ২০০ লিটার অবৈধভাবে মজুদ তেল পাওয়া যায়। বিএসটিআই লাইসেন্স ও মান নিয়ন্ত্রণ সনদ না থাকায় তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া কুষ্টিয়া সদরে বাবুল পাল স্টোরে ৫ হাজার ৫৭৩ লিটার তেল মজুদের অভিযোগে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
একইভাবে মৌলভীবাজারে মৌলভী ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারিতে তেল থাকা সত্ত্বেও বিক্রি না করে মজুদ রাখায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী আরও জানান, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং ভোক্তাদের ভোগান্তি রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান চলমান রয়েছে।
এফআর