রাজধানীর একটি মানবিক চিকিৎসা উদ্যোগকে ঘিরে তৈরি হয়েছে অস্বস্তিকর এক পরিস্থিতি। বিনামূল্যে কিডনি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে হাজারো রোগীর জীবন বাঁচানো প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম এবার নিজেই পড়েছেন চাপে- অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে একটি চক্র তার প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।
শ্যামলীতে গড়ে ওঠা তার প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি)’ প্রায় দুই দশক ধরে স্বল্প ও বিনা খরচে কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য পরিচিত। চিকিৎসা সেবায় এই অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মানগুলোর একটি স্বাধীনতা পদকও অর্জন করেন। তবে মানবসেবার এই যাত্রাপথে নতুন করে যুক্ত হয়েছে নিরাপত্তা ও প্রভাব বিস্তারের শঙ্কা।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন মো. মঈন উদ্দিন মঈন নামের এক স্থানীয় যুবদল নেতা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত প্রায় এক বছর ধরে তার নেতৃত্বে একটি গ্রুপ বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। কখনো সরাসরি উপস্থিত হয়ে হুমকি, কখনো আবার রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা- এমন নানা কৌশলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন
ঘটনার পেছনে অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত থাকার ইঙ্গিতও মিলেছে। বিশেষ করে হাসপাতালের খাবার সরবরাহ সংক্রান্ত একটি চুক্তি না পাওয়াকে কেন্দ্র করেই দ্বন্দ্বের সূচনা বলে জানা গেছে। এরপর থেকে নিয়মিত বিরোধ, ভয়ভীতি এবং কথিত চাঁদা দাবির অভিযোগ সামনে আসে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছে এবং থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তার দাবি, এটি সরাসরি চাঁদাবাজির ঘটনা কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়; বরং অভ্যন্তরীণ বিরোধের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
তবে চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম মনে করছেন, তার প্রতিষ্ঠানের সেবামূলক কার্যক্রম ব্যাহত করার মতো এই চাপ শুধু ব্যক্তিগত নয়, জনস্বার্থের জন্যও উদ্বেগজনক। মানবিক চিকিৎসা উদ্যোগকে নিরাপদ রাখতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।
এএডি/