ইতিহাস সংরক্ষণের স্বার্থে জুলাই ম্যাসাকারের তথ্য নিয়ে উন্নত অডিও-ভিজুয়াল আর্কাইভ গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরও গতিশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব ও সাংবাদিক শফিকুল আলম ও শোয়েব আব্দুল্লাহ।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে ‘জুলাই রেকর্ডস’-এর প্রথম প্রকাশনা ‘জুলাই বয়ান : শহিদ পরিবার, আহত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ইন্টারভিউ’ বইয়ের ওপর আলোচনা সভায় তারা এ আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জুলাইয়ের একাধিক শহিদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং দেশের বিশিষ্ট লেখক, সাংবাদিক, গবেষক ও মানবাধিকারকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও ম্যাসাকারের ডকুমেন্টেশন, ওরাল হিস্ট্রি, স্মৃতি সংরক্ষণ, বহুমাত্রিক ন্যারেটিভ এবং বিচার নিশ্চিতকরণসহ সম্প্রতি সংসদে পাস হওয়া ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ’ নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা, কবি ও বুদ্ধিজীবী ইমরুল হাসান, কবি হাসান রোবায়েত, লেখক ও গবেষক ছন্দা মাহবুব। মানবাধিকার সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সদস্য মুশফিকুর রহমান জোহান এবং এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার তাদের বক্তব্যে সম্প্রতি পাস হওয়া ‘গুম অধ্যাদেশ’ ও ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ’-এর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করে সরকারের সমালোচনা করেন। এনসিপির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাতও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
মীর হাবীব আল মানজুরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অত্যন্ত আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় যখন জুলাইয়ের শহিদদের স্বজনরা স্মৃতিচারণ করেন। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না পাওয়া ‘রোহিঙ্গা’ শহিদ নুর মোস্তফার পিতা শফি আলম তার সন্তানের শহিদ স্বীকৃতির দাবি জানান। এছাড়া শহিদ আব্দুল ওয়াদুদের স্ত্রী শাহনাজ পারভীন এবং শহিদ ওমর বিন নুরুল আবসারের স্ত্রী ফারজানা জাহান নীলা জুলাইয়ের সেই ভয়াবহ দিনগুলোর স্মৃতি তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে লড়াইয়ে এক চোখ হারানো দুই যোদ্ধা তাহমিদ হুজাইফা ও এম এ মু্হাইমিন পুলক উপস্থিত থেকে তাদের অভিজ্ঞতার কথা জানান।
সমাপনী বক্তব্যে জুলাই রেকর্ডসের সদস্য কাজী ওয়ালী উল্লাহ বলেন, আমাদের এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ‘জুলাই বয়ান’ বইটিকে কেন্দ্র করে সামগ্রিকভাবে জুলাইয়ের ইতিহাস প্রকল্প এবং ডকুমেন্টেশনের গুরুত্ব তুলে ধরা। একইসাথে আগামী দিনের কর্মপন্থা নির্ধারণে জুলাই রেকর্ডস ও অন্যান্য সংস্থার অংশগ্রহণ কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়ে বিজ্ঞজনদের পরামর্শ গ্রহণ করা।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও আগ্রহী পাঠকদের সরব উপস্থিতি আলোচনা সভাকে সফল করে তোলে।
সময়ের আলো/আআ