কুড়িগ্রাম পৌরসভায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির বরাদ্দকৃত অর্ধকোটি টাকা নামে মাত্র প্রকল্প দেখিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এমন অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।
জানা গেছে, সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কুড়িগ্রাম পৌরসভায় দুই দফায় মোট ৫২ লাখ ৩২ হাজার ৪০৫ টাকা বরাদ্দ দেয়।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বরাদ্দকৃত অর্থ কাবিখা প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ, বাঁধ ও রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণ, নালা নির্মাণ, সংস্কার ও নর্দমা খনন এবং সংরক্ষণ, ধর্মীয় শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানসমূহ মেরামত-উন্নয়ন, স্যানিটারি ল্যাট্রিন নির্মাণ, গ্রামীণ যাতায়াত ব্যবস্থার সুবিধার্থে বাঁশ কিংবা কাঠের সাঁকো নির্মাণ, বিশুদ্ধ খাবার পানি প্রাপ্তির জন্য নলকূপ প্রতিষ্ঠা ২০টি খাতে ব্যবহারের কথা।
অভিযোগ উঠেছে, সরকারের নির্দেশনা অমান্য কুড়িগ্রামের পৌর প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কুদরত-ই-খুদা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিজেদের লোক দিয়ে মনগড়া প্রকল্প তৈরি করেন। শুধু তাই নয়, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিধিবহির্ভূতভাবে পৌরসভার তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীসহ পৌর নির্বাহী কর্মকর্তাকে একাধিক প্রকল্পের সভাপতি করে প্রকল্প কমিটি দাখিল করা হয়।
ইতোমধ্যে টাকাও উত্তোলন করা নিয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা।
এদিকে, পৌরসভায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকার সুযোগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সদ্য সাবেক পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শামিমা আকতারের বিরুদ্ধে। তিনি অবৈধভাবে দৃশ্যমানহীন প্রকল্প গ্রহণ, অনুমোদন ও কমিটি অনুমোদন দিয়ে অন্যত্র বদলি হয়ে চলে গেছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
অনুসন্ধানেও এসব তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌর এলাকায় মোট ২৩টি প্রকল্পের মধ্যে দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি। পাশাপাশি, গত অর্থ বছরের জেলা ত্রাণ গুদাম ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্য কেন্দ্র হতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় যাওয়ার রাস্তা ‘সোলিং করণ প্রকল্প’ সম্পন্ন হওয়ার পরেও চলতি অর্থ বছরে একই প্রকল্প দেখানো হয়েছে। এতে প্রকল্পের এক লাখ ৬১ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
জানতে চাইলে একাধিক প্রকল্পের সভাপতি ও কুড়িগ্রাম পৌরসভার সাবেক পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শামিমা আকতার অনিয়মের বিষয় অকপটে স্বীকার করেন।
তার দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যা নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি তাই করেছেন। তাই পৌর প্রশাসক ও বর্তমান পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ করেন তিনি।
এ বিষয়ে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আইয়ুব আলী জানান, টিআর প্রকল্পের সব দায়-দায়িত্ব পৌর প্রশাসকের। আমি এর বেশি কিছু জানি না।
এসব বিষয়ে কথা বলতে পৌর প্রশাসক কুদরত-ই-খুদার সাদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ করেনি।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ সময়ের আলোকে বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এফআর