ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচন সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে নিয়ম মানার ঘাটতি ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যালায়েন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আফিদ)।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর পল্টনে ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে আফিদ এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে।
সংবাদ সম্মেলনে আফিদের মুখপাত্র হারুন-অর-রশিদ বলেন, “আমরা সাধারণভাবে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া লক্ষ্য করেছি। তবে নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে কিছু ক্ষেত্রে উন্নতির সুযোগ রয়েছে।”
পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই উপনির্বাচনে আফিদ মোট ৫৩ জন পর্যবেক্ষক মোতায়েন করে। এর মধ্যে বগুড়া-৬ আসনে ৩০ জন এবং শেরপুর-৩ আসনে ২৩ জন দায়িত্ব পালন করেন।
আফিদ জানায়, ভোটকেন্দ্রগুলোতে গোপনীয়তা রক্ষা এবং ব্যালট বাক্স সিল করার প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে ৩২ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য যাতায়াত ব্যবস্থা সীমিত ছিল। পর্যবেক্ষণ করা ১০৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১২ শতাংশ ক্ষেত্রে ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ে ধারাবাহিকতা ছিল না এবং ১১ শতাংশ কেন্দ্রে প্রক্সি ভোটের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এছাড়া ৪৭ শতাংশ ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে নির্বাচনী প্রচার সামগ্রী দেখা গেছে, যা আচরণবিধির পরিপন্থী। ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে ভোটারদের দলবদ্ধভাবে একই যানবাহনে করে কেন্দ্রে আসতে দেখা গেছে, যা সংগঠিত পরিবহনের ইঙ্গিত দেয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল। পর্যবেক্ষকদের তথ্যমতে, কেন্দ্রভেদে উপস্থিতির হার ছিল সর্বনিম্ন ৩১ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৬৪ শতাংশ।
শেরপুর-৩ আসনে ব্যাপক অনিয়ম ও এজেন্ট বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে ভোটের দিন বিকেল সাড়ে ৩টায় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান। তবে আফিদ জানায়, এই ঘোষণার তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব ভোটকেন্দ্রে পড়েনি।
অন্যদিকে, বগুড়া-৬ আসনে ডাকযোগে ভোটের হার ছিল তুলনামূলকভাবে কম। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ইস্যু করা ৩ হাজার ৭৩৬টি ব্যালটের মধ্যে মাত্র ১ হাজার ৬৮টি ফেরত এসেছে, যা মোট ভোটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ডেমোক্রেসি ওয়াচের চেয়ারপারসন তালেয়া রহমান, রাইট যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক এবং ডর্পের চেয়ারপারসন এ এইচ এম নোমানসহ সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, নির্বাচিত প্রার্থী অন্য একটি আসন রেখে দেওয়ায় বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য হয় এবং প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনটি শূন্য হয়েছিল।