ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় আমরা অনেকেই অসংখ্য ট্যাব খুলে কাজ করে থাকেন। কিন্তু একসঙ্গে অনেক পেজ খোলা থাকলে কোনটিতে কী আছে, তা খুঁজে পাওয়া বেশ ঝক্কির ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। ব্যবহারকারীদের এই ভোগান্তি কমাতে গুগল ক্রোম এবার নিয়ে এলো বহুল প্রতীক্ষিত ‘ভার্টিক্যাল ট্যাব’ ফিচার। দীর্ঘদিন পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকার পর অবশেষে ফিচারটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এটি ব্যবহারকারীদের ব্রাউজিং অভিজ্ঞতাকে বদলে দিয়ে কাজকে করবে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময়।
ভার্টিক্যাল ট্যাব আসলে কী?
সাধারণত ব্রাউজারের ট্যাবগুলো ওপরের দিকে সারিবদ্ধভাবে (ঐড়ৎরুড়হঃধষ) থাকে। কিন্তু নতুন এই ফিচারে ট্যাবগুলো উইন্ডোর বাম বা ডান পাশে ওপর-নিচ করে সাজানো থাকবে। এর ফলে ট্যাবের পুরো শিরোনাম সহজেই পড়া যাবে।
অনেক ট্যাব খোলা থাকলেও নির্দিষ্ট পেজটি খুঁজে পেতে সময় কম লাগবে।
ব্রাউজারের ট্যাবগুলো নিয়ন্ত্রণ করা অনেক বেশি সহজ হবে।
কীভাবে চালু করবেন?
এই সুবিধাটি ব্যবহার করা খুবই সহজ। ক্রোম ব্রাউজারের উইন্ডোর ডান দিকে থাকা অপশন থেকে ‘শো ট্যাব ভার্টিক্যাল’ নির্বাচন করলেই ট্যাবগুলো পাশে চলে আসবে। একবার এটি সেট করে নিলে তা ডিফল্ট হিসেবে থেকে যাবে। তবে আপনি চাইলে যেকোনো সময় আগের সেই পরিচিত আনুভূমিক মোডে ফিরে যেতে পারবেন।
বিশেষ সুবিধা : ভার্টিক্যাল মোডেও আপনি সাধারণ ট্যাবের মতো আলাদা উইন্ডো বা ‘ট্যাব গ্রুপ’ তৈরি করতে পারবেন। এতে একই ধরনের একাধিক ওয়েবসাইট আলাদা করে চিনে রাখা সহজ হবে।
আসছে উন্নত ‘রিডিং মোড’
ভার্টিক্যাল ট্যাবের পাশাপাশি গুগল তাদের ‘রিডিং মোড’ ফিচারটিকেও আগের চেয়ে উন্নত করেছে। অনেক সময় ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় তথ্য পড়ার সময় বিজ্ঞাপন বা পপ-আপ নোটিফিকেশন বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নতুন আপডেটের ফলে এসব অপ্রয়োজনীয় বিষয়গুলো এড়িয়ে ব্যবহারকারীরা এখন আরও পরিষ্কার ও স্বচ্ছন্দে যেকোনো লেখা পড়তে পারবেন।
এদিকে ‘গুগল এআই এজ এলোকোয়েন্ট’ নামের ডিকটেশন অ্যাপ উন্মুক্ত করেছে। এই অ্যাপ মুখের কথায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সিদ্ধান্তের কথা লিখে রাখতে সক্ষম। গুগল এআই এজ এলোকোয়েন্ট নামের ডিকটেশন অ্যাপটি ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই কাজ করে। এর ফলে যেকোনো সময় অ্যাপটি কাজে লাগিয়ে মুখে উচ্চারণ করা শব্দ ফোনের পর্দায় তাৎক্ষণিকভাবে বার্তা আকারে দেখা যায়। শুধু তা-ই নয়, স্বয়ংক্রিয়ভাবে কথার মাঝখানে বলা অপ্রয়োজনীয় শব্দ (যেমন ‘উম’, ‘আহ’) ফিল্টার করে লেখাকে আরও মার্জিত ও গুছিয়ে প্রকাশ করতে পারে অ্যাপটি। আইওএস অপারেটিং সিস্টেমের জন্য তৈরি অ্যাপটির ট্রান্সক্রিপ্টের ঠিক নিচেই ‘কি পয়েন্ট’, ‘ফরমাল’, ‘শর্ট’ ও ‘লং’-এর মতো কিছু অপশন যুক্ত করা হয়েছে। এসব অপশন ব্যবহার করে লেখাকে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা যাবে।
বিনামূল্যের অ্যাপটি প্রতিটি ডিকটেশনের ইতিহাস সংরক্ষণ করে থাকে। পাশাপাশি সবশেষ সেশনে বলা শব্দ, কথা বলার গতি ও মোট শব্দসংখ্যার তথ্য জানা যায় অ্যাপটিতে। ব্যবহারকারীরা চাইলে অ্যাপটির ক্লাউড মোড চালু করে গুগলের জেমিনাই মডেলের সহায়তা নিতে পারবেন।
গুগল জানিয়েছে, প্রচলিত ডিকটেশন অ্যাপগুলো অপ্রয়োজনীয় শব্দগুলোকেও হুবহু লিখে ফেলে।
কিন্তু গুগল এআই এজ এলোকোয়েন্ট অ্যাপটি বক্তার কথার প্রকৃত অর্থ শনাক্ত করতে পারে। আর তাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কথার মাঝখানে থাকা ‘উম’, ‘আহ’ বা মাঝপথে নিজেকে সংশোধন করে নেওয়া কথাগুলো বাদ দিয়ে একটি নির্ভুল ও পরিচ্ছন্ন লেখা প্রদর্শন করতে পারে।