আলোচনায় ২০ শীর্ষ নেতা

রফিক রাফি

রাজনীতি

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শতাধিক পদ নানা কারণে শূন্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জাতীয় স্থায়ী কমিটির ৫টি পদ শূন্য। এতে

2026-04-13T05:26:40+00:00
2026-04-13T05:26:40+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
রাজনীতি
আলোচনায় ২০ শীর্ষ নেতা
রফিক রাফি
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২৬ এএম 
বিএনপি। ছবি : সংগৃহীত
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শতাধিক পদ নানা কারণে শূন্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জাতীয় স্থায়ী কমিটির ৫টি পদ শূন্য। এতে দলের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটছে বলে মনে করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। দীর্ঘদিন কেন্দ্রীয় কমিটি হালনাগাদ না হওয়ায় তৃণমূল থেকে নেতৃত্বের বিকাশও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে- এমন দাবি নেতাকর্মীদের। 

এমন পরিস্থিতিতে এক দশক ধরে না হওয়া কেন্দ্রীয় সম্মেলন আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। চলতি বছরের ডিসেম্বরে হতে পারে বিএনপির ৭ম জাতীয় কাউন্সিল। মূলত দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘জাতীয় স্থায়ী কমিটি’র ৫টি গুরুত্বপূর্ণ পদসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শতাধিক শূন্য পদ পূরণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্বের বিকাশ ত্বরান্বিত করতেই এই বৃহৎ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। তবে জাতীয় কাউন্সিল ছাড়াই স্থায়ী কমিটির শূন্য পদে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে দলের অভ্যন্তরে আলোচনা রয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা ১৯ জন। তবে দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত কারণ, মৃত্যু, পদত্যাগ এবং রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার ফলে বেশ কয়েকটি পদ শূন্য হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদের স্পিকার হওয়ায় তিনিও বিএনপির স্থায়ী কমিটির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। বর্তমান বাস্তবতায় সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘স্থায়ী কমিটি’র শূন্য পদগুলো পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, এ বছরের মধ্যেই বিএনপির কাউন্সিল ‘শিগগিরই’ অনুষ্ঠিত হবে। তবে এখনও সময় নির্ধারণ হয়নি।

জানা যায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির ১৯টি পদের মধ্যে বর্তমানে ৫টি পদশূন্য রয়েছে, যা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। এসব পদে স্থান পেতে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও যুগ্ম মহাসচিব পর্যায়ের প্রায় ২০ জন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। 

গত কয়েক বছরে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, আ স ম হান্নান শাহর মতো প্রভাবশালী নেতাদের মৃত্যুর কারণে নীতিনির্ধারণে কিছু সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে ১৪ জন সদস্য নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে স্থায়ী কমিটি। তাদের মধ্যেও কয়েকজন বয়সের কারণে অসুস্থতায় ভুগছেন। তবে বিএনপির চেয়ারম্যান চাইলে তার ক্ষমতাবলে কাউন্সিলের আগেই স্থায়ী কমিটির শূন্য পদগুলো পূরণ করতে পারেন। আগেও তা করা হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য আলাপকালে জানান, বর্তমানে নীতিনির্ধারণী ফোরামের ৫টি শূন্য পদসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যান্য শূন্য পদ পূরণ করা সময়ের দাবি।

তবে এসব পদে নিয়োগ দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাদের মতে, দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালনের পরও অনেকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাচ্ছেন না। আবার সম্প্রতি কাউকে কাউকে অতিমূল্যায়ন করা হয়েছে। পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ, যারা দীর্ঘদিন ধরে দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজে দক্ষতা দেখিয়েছেন- এমন নবীন ও প্রবীণ নেতাদের আগামীতে উপযুক্ত পদে পদায়ন করা হবে বলে তারা জানান।

বিএনপি নির্বাহী কমিটির অবস্থা : দলের নেতারা বলছেন, ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। যদিও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর পরপর কাউন্সিল করে জাতীয় নির্বাহী কমিটি নির্বাচন করার কথা, সে অনুযায়ী অনেক আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটি। 

তবে বিগত কয়েক বছরে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে না ফেরা, সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দি করে রাখা এবং তৎকালীন সরকারের দমন-পীড়নের কারণে দলের সপ্তম কাউন্সিল আয়োজন সম্ভব হয়নি। 

এ সময়ের মধ্যে দলের অনেক নেতা মারা গেছেন, অনেকে দল ত্যাগ করেছেন, আবার অনেকে স্বেচ্ছায় রাজনীতি থেকে অবসরে গেছেন। অনেক কেন্দ্রীয় নেতা দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন এবং অনেকে বয়সের ভারে ন্যুব্জ। ফলে স্থায়ী কমিটির ৫টি, ভাইস চেয়ারম্যানের ১৬টি এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার ১০টি পদ এখনও শূন্য রয়েছে। সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির প্রায় শতাধিক পদ এখনও খালি রয়েছে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কয়েকটি পদে পদায়ন করা হয়েছে।

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা ১৯ জন। ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল শেষে ১৭ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। এর মধ্যে কয়েকজন মারা গেছেন- তরিকুল ইসলাম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ এবং এম কে আনোয়ার। 

এ ছাড়া ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর মারা গেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। আরও রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান। সর্বশেষ মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদের স্পিকার হওয়ায় তিনি স্থায়ী কমিটির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।

বর্তমানে স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে আছেন- বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন (বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ), ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার (বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ), ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া (গুরুতর অসুস্থ), মির্জা আব্বাস (বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ), গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। 

তাদের মধ্যে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ২০১৮ সাল থেকে গুরুতর অসুস্থ থাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় নন। জমির উদ্দিন সরকারও বয়সজনিত কারণে অসুস্থ। স্থায়ী কমিটির সাম্প্রতিক বৈঠকেও তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। মির্জা আব্বাস সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও বয়সজনিত কারণে অসুস্থ।

২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট স্থায়ী কমিটির শূন্যপদে তৎকালীন দুই ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম এবং অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে পদায়ন করা হয়। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে গত ১২ মার্চ স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ দলীয় সব পদ থেকে পদত্যাগ করেন। বর্তমানে স্থায়ী কমিটির ৫টি পদ শূন্য রয়েছে।

আলোচনায় ২০ জন নেতা : খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থায়ী কমিটির শূন্য ৫টি পদের বিপরীতে কয়েকজন ভাইস চেয়ারম্যানের নাম আলোচনায় রয়েছে। 

তারা হলেন- বরকত উল্লাহ বুলু, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, নিতাই রায় চৌধুরী এবং নূরুল ইসলাম মনি।

উপদেষ্টাদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন- অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির, অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, হারুনুর রশিদ, জহির উদ্দিন স্বপন, আফরোজা খানম রিতা এবং আমিনুর রশিদ ইয়াসিন।

এ ছাড়া আলোচনায় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (শিল্প বিষয়ক) ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল এবং বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল।

সময়ের আলো/কেএইচও


  বিষয়:   আলোচনা  বিএনপি  শীর্ষ নেতা 


Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: