পড়ে আছে ১শ শয্যার হাসপাতাল

কুমিল্লা সংবাদদাতা

সারাদেশ

হামের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে রোগীদের চাপ সামাল দিতে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের মতো কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালও হিমশিম খাচ্ছে।

2026-04-14T03:25:04+00:00
2026-04-14T03:25:04+00:00
 
  রবিবার, ৭ জুন ২০২৬,
২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
সারাদেশ
পড়ে আছে ১শ শয্যার হাসপাতাল
কুমিল্লা সংবাদদাতা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২৫ এএম   (ভিজিট : ২৯)
সংগৃহীত ছবি
হামের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে রোগীদের চাপ সামাল দিতে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের মতো কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালও হিমশিম খাচ্ছে। শয্যার অভাবে বারান্দায় ঠাঁই নিতে হচ্ছে হামে সংক্রমিত শিশুদের। কিন্তু দেড় বছরের বেশি সময় ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে শিশুদের জন্য নির্মাণ করা ১০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতাল ভবন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্মাণকাজ শেষ হলেও এর পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগ এবং কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ঠেলাঠেলিতে এখনও চালু করা যায়নি হাসপাতালটি। তবে হাম সংক্রমণের প্রাদুর্ভাবের সময় এসে জেলা সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, জনবল ও যন্ত্রপাতির জন্য জানানো হয়েছে মন্ত্রণালয়কে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বেলতলীতে গিয়ে দেখা গেছে, ১০০ শয্যা শিশু হাসপাতাল ভবন পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে চকচকে হাসপাতালটিতে নেই চিকিৎসক, নার্স, আসবাবপত্র এবং যন্ত্রপাতি।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর কুমিল্লার সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, ২০২০ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ৩৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন একর জমির ওপর গড়ে তোলা হয় শিশু হাসপাতালের তিন তলা ভবন। সঙ্গে রয়েছে ছয় তলা ও তিন তলা দুটি কোয়ার্টার এবং দোতলা গ্যারেজ। হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২৪ সালে।

প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা দেড় বছর আগেই হাসপাতালটি হস্তান্তর করতে চেয়েছি কিন্তু দায়িত্ব কে নেবে এই জটিলতায় এখনও হাসপাতালের জন্য জনবল, যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র বরাদ্দ চাওয়া হয়নি। না হয় এতদিনে হাসপাতালটি ব্যবহার উপযোগী হয়ে চালু হয়ে যেত। 

স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ বলছে, ঠিক সময়ে দায়িত্ব নিলে হাম সংক্রমণের এই জরুরি সময়ে হাসপাতালটি এই অঞ্চলের শিশুরোগীদের জন্য অন্যতম আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে সেবা দিতে পারত। 

এদিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে গিয়ে দেখা গেছে, সাধারণ ওয়ার্ডের পাশাপাশি তিনটি আইসোলেশন ওয়ার্ড নতুন করার পরও বারান্দায় ঠাঁই নিতে হচ্ছে হামে সংক্রমিত শিশুরোগীদের। হাসপাতাল ভবনের নিচ তলায় একটি ও দোতলায় মোট তিনটি কক্ষকে হাম সংক্রমিত এবং উপসর্গ পাওয়া শিশুদের জন্য আইসোলেশন ইউনিট করা হয়েছে। তিনটি কক্ষে কুমিল্লা, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুরের ৩২ জন শিশু রোগী ভর্তি রয়েছে।

জায়গা সংকুলান না হওয়ায় বেশ কয়েকজন রোগীকে আইসোলেশন ইউনিটের বারান্দায় চাটাই পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। কেউ আবার আইসোলেশন ইউনিটের মেঝেতেই পেতেছেন বিছানা। যেখানে একটি আইসোলেশন ইউনিটে রোগীদের নির্দিষ্ট দূরত্ব থাকার কথা সেখানে খুবই নিরুপায় হয়ে গাদাগাদি করেই শিশুর চিকিৎসার জন্য পড়ে আছেন স্বজনরা।

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে ছয় মাস বয়সি আয়াতকে নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন স্বজনরা। সংকটাপন্ন শিশুটির মা ফারজানা আক্তার বলেন, আয়াতকে ভেন্টিলেশনের মাধ্যমে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। চাঁদপুর জেলায় ভেন্টিলেশনের সুবিধা না থাকায় আমাদের কুমিল্লায় পাঠানো হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা থেকে আসা পাঁচ মাস বয়সি শিশু রাজুর বাবা সুখেন দাশ বলেন, নবীনগর থেকে ডাক্তার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এখানে এসে কোনো সিট পাইনি। তাই বারান্দাতেই চিকিৎসা নিচ্ছি। শুনেছি আশপাশের এলাকার মধ্যে এখানে ভালো চিকিৎসা পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান মিয়া মনজুর আহমেদ বলেন, তুলনামূলক ভালো চিকিৎসা হয় তাই বৃহত্তর কুমিল্লা ও বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের সংক্রমিত রোগে আক্রান্ত শিশুরা এখানেই আসে।হাসপাতালটিতে শিশুরোগীদের জন্য বরাদ্দ ৪০ বেডের বিপরীতে সাধারণ সময়ে প্রতিদিন অন্তত তিনগুণ রোগী থাকে। এর মধ্যে হাম সংক্রমণের পর থেকে রোগীর চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ।

তিনি আরও বলেন, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বেলতলীতে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতালটি দ্রুত চালু করা গেলে সেখানে রোগীদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যেত। বিশেষ করে সংক্রমিত রোগের আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি করতেই সুবিধা হত। এ ছাড়া শিশুরা একই ছাদের নিচে সব ধরনের চিকিৎসা সেখান থেকে পেত। আর আমাদেরও এখানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হিমশিম খেতে হত না।

তবে সবশেষে শিশু হাসপাতালটির দায়িত্ব নিয়েছে কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয়। কুমিল্লার সিভিল সার্জন আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু বিভাগকে বলা হয়েছিল হাসপাতালটির দায়িত্ব নেওয়ার জন্য। 

কিন্তু তারা বলেছে, তাদের পক্ষে সেটি সম্ভব নয়। পরে আমাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের অল্প কিছু কাজ এবং বিদ্যুৎ বিল বাকি রয়েছে। ঠিকাদার থেকে তারা এখনও বুঝে পায়নি বলে জানিয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালটিতে এখনও আসবাবপত্র এবং যন্ত্রপাতি আসেনি। জনবল নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দৃষ্টি দিলে আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালটি চালু করতে পারব। 

সময়ের আলো/আআ



  বিষয়:   শয্যা  হাসপাতাল  রোগী  স্বাস্থ্য  কুমিল্লা 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: