ময়মনসিংহের ত্রিশালে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় বালুমহালের ইজারাদারের এক কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর ১টা ৫৯ মিনিটের দিকে উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের কালীরবাজারের কুলুরবাড়ি এলাকায় বালু বিক্রির একটি পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
প্রায় তিন মিনিটের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ইউএনওর নেতৃত্বে আনসার ও র্যাব সদস্যরা বালু বিক্রির পয়েন্টে যান। সেখানে ইউএনও কাগজপত্র দেখতে চান। এ সময় ইজারাদার প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক সারোয়ার জাহান ওরফে বাচ্চু অভিযানে আসা কর্মকর্তাদের পরিচয় জানতে চান।
একপর্যায়ে ইউএনও সারোয়ার জাহানকে পরপর দুটি থাপ্পড় দেন বলে ফুটেজে দেখা যায়। পরে র্যাবের এক সদস্য তাকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে ইউএনও ওই সদস্যের কাছ থেকে একটি লাঠি নিয়ে সারোয়ারকে কয়েকবার আঘাত করেন বলে ফুটেজে দেখা যায়। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমান ইউএনওকে থামানোর চেষ্টা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সারোয়ারকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেন।
ইজারাদারপক্ষের দাবি, অভিযানের সময় সারোয়ার জাহান অভিযানে আসা কর্মকর্তাদের পরিচয় জানতে চাওয়ায় কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে তাকে র্যাবের গাড়িতে করে ত্রিশালের ধলা এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে ছেড়ে দেওয়ার পর স্বজন ও ইজারাদারপক্ষের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের মালিক শামসুজ্জামান মাসুদ বলেন, প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে তারা বালুমহালটি ইজারা নিয়েছেন। ইজারার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাদের কাছে রয়েছে। তার দাবি, তাদের কর্মী অভিযানে আসা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চাওয়ার পরই তাকে মারধর করা হয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, তিনি ভিডিওটি দেখেছেন। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সময়ের আলো/জোই