আসন্ন বাংলাদেশ সফরে নিউজিল্যান্ডের জন্য প্রধান মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্বাগতিকদের স্পিন আক্রমণ। তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগে কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথাম সরাসরি স্বীকার করেছেন, বাংলাদেশের মাটিতে তাদের মানসম্পন্ন স্পিনারদের সামলানো হবে এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। অতীতের ‘স্পিন ফাঁদ’ তৈরির রেকর্ড নিউজিল্যান্ডকে বাড়তি সতর্কতায় রাখলেও সাম্প্রতিক সময়ে স্পোর্টিং উইকেটে বাংলাদেশের খেলার প্রবণতা কিউইদের কিছুটা দোলাচলে রেখেছে। তবে সব মিলিয়ে আসন্ন এই সিরিজে মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে স্পিন বিভাগই যে মুখ্য ভূমিকা রাখবে তা স্পষ্ট।
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে গতকাল সকালে ঢাকায় আসে নিউজিল্যান্ড দলের একাংশ। রাতেই আসার কথা দলের বাকি সদস্যের। নিউজিল্যান্ডের বিমানে চাপার আগে সেখানকার গণমাধ্যমে কিউই অধিনায়ক লাথাম বলেন, ‘বাংলাদেশের মাটিতে যেকোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে স্পিন বড় ভূমিকা রাখে। অতীত রেকর্ড তেমনই বলছে। এবারও বাংলাদেশের স্পিনাররা আমাদের বড় হুমকি হবে। আমরা যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। খেলার পরিস্থিতি ও উইকেটে সম্ভাব্য ধরন অনুসারে যেকোনো অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সামর্থ্য আমাদের দলের আছে।
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বা অন্য কোনো জায়গায় খেলার জন্য প্রস্তুতি থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খেলার পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারলে খুব বেশি সমস্যা হয় না। আশা করি এবার বাংলাদেশ সফরে আমরা সবকিছু ভালোভাবে করতে পারব।’
আইপিএল ও পিএসএলের ব্যস্ততা, চোট এবং নিয়মিত খেলোয়াড়দের বিশ্রামের কারণে অনেকটা ‘দ্বিতীয় সারির’ দল নিয়ে বাংলাদেশ সফরে আসছে নিউজিল্যান্ড। তবে প্রথম সারির তারকাদের অনুপস্থিতিতেও নিজের এই দলটিকে ভারসাম্যপূর্ণ বলে দাবি করেছেন কিউইদের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক টম ল্যাথাম। তার মতে, স্কোয়াডে থাকা অনেকেরই জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচ খেলার সংখ্যা কম হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরিবেশ সম্পর্কে তাদের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। মূলত ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটারদের ওপরই আস্থা রাখছে ব্ল্যাক-ক্যাপসরা।
ল্যাথাম বলেন, ‘আগের দলগুলোর চেয়ে এবারের দল আলাদা। তবে এমন নয় যে, তাদের অভিজ্ঞতা নেই। বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কম-বেশি ম্যাচ খেলেছে। বিশেষভাবে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে তাদের খেলার অভিজ্ঞতা আছে। আশা করি সেই অভিজ্ঞতা এই সিরিজে ভালো কাজে দেবে।
আসন্ন সিরিজে বাংলাদেশের কন্ডিশন কিউই ক্রিকেটারদের জন্য বাড়তি সুবিধা দেবে বলে বিশ্বাস করেন অধিনায়ক ল্যাথাম। বর্তমান স্কোয়াডে থাকা ছয়জন ক্রিকেটার গত বছর নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের হয়ে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন, যা কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাদের সহায়তা করবে।
ল্যাথাম জানান, দলের একটি বড় অংশেরই বাংলাদেশের কন্ডিশন ও উইকেট সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রয়েছে। এই অভিজ্ঞতা মাঠের লড়াইয়ে ক্রিকেটারদের বিশেষভাবে উপকৃত করবে এবং প্রতিকূল পরিবেশ জয় করে ইতিবাচক ফলাফল পেতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদী কিউই অধিনায়ক।
তিনি বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে কন্ডিশন বড় ছাপ ফেলে। এই কন্ডিশনের কারনে খেলার ধরন পাল্টে যায়। এই ধরনের পরিস্থিতিতে নিজের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করতে হয়। আশা করি এর আগে যারা এই কন্ডিশনে খেলেছে তারা কন্ডিশন নিয়ে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করবে, বাংলাদেশের উইকেট এবং বোলারদের নিয়ে ধারণা দেবে।
নিউজিল্যান্ডের আসন্ন বাংলাদেশ সফর শুরু হচ্ছে ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে। সূচি অনুযায়ী আগামী ১৭ ও ২০ এপ্রিল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডে। এরপর দুদল পাড়ি জমাবে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। যেখানে ২৩ এপ্রিল শহিদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে তারা।
সীমিত ওভারের এই সফরের টি-টোয়েন্টি অংশটিও ভাগ করা হয়েছে দুই ভেন্যুতে। কুড়ি ওভারের লড়াইয়ের প্রথম দুটি ম্যাচ হবে চট্টগ্রামে, যথাক্রমে ২৭ ও ২৯ এপ্রিল। এরপর সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি খেলতে আবারও ঢাকায় ফিরবে দুদল, যা ২ মে মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে অনুষ্ঠিত হবে। মূলত ওয়ানডে দিয়ে শুরু হয়ে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট দিয়ে পর্দা নামবে এই হাইভোল্টেজ সিরিজের।
সময়ের আলো/আআ