বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশের জলসীমায় মাছ ধরার ওপর ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ভোলার হাজার হাজার জেলে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞার ফলে জেলার প্রায় ৬৫ হাজার জেলে এখন পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগেই অধিকাংশ জেলে জাল ও ট্রলার নিয়ে ঘাটে ফিরে এসেছেন। ভোলার বিভিন্ন মাঠঘাটে এখন দেখা যাচ্ছে ট্রলার নোঙর করা অবস্থায়, আর জাল মেরামতের ব্যস্ততা।
অনেক জেলে জানিয়েছেন, বিকল্প কোনো আয় না থাকায় এই সময়টা তাদের জন্য চরম দুর্ভোগের হবে।
জেলেরা অভিযোগ করছেন, নিষেধাজ্ঞার সময় তাদের পরিবারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। তাই তারা দ্রুত সরকারি খাদ্য সহায়তা হিসেবে বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল বিতরণের দাবি জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে এনজিও ঋণের কিস্তি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার আহ্বানও জানিয়েছেন অনেকে, যাতে এই সময়ে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না পড়ে।
আরও পড়ুন
স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময় দেশের জেলেরা মাছ ধরতে না পারলেও সীমান্ত এলাকায় বিদেশি ট্রলার প্রবেশ করে মাছ শিকার করে থাকে। তারা দাবি করেছেন, এই সময় ভারতীয় জেলেদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর নজরদারি দরকার।
তাদের মতে, জলসীমা সুরক্ষিত না থাকলে নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য সফল হবে না এবং পরবর্তীতে মাছের উৎপাদনেও এর প্রভাব পড়বে।
জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভোলার সাতটি উপজেলায় মোট নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৯৫৪ জন।
এর মধ্যে রয়েছে, সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৬৯৮ জন, দৌলতখানে ১১ হাজার ৫৫০ জন, বোরহানউদ্দিনে ৭ হাজার ৬৫০ জন, লালমোহনে ৮ হাজার ৮০৪ জন, তজুমুদ্দিনে ৪ হাজার ৫০৬ জন, চরফ্যাশনে ১৭ হাজার ৫৬১ জন, মনপুরায় ১০ হাজার ১৮৫ জন।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সামুদ্রিক মাছ সংরক্ষণ ও টেকসই আহরণের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন ঘাটে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিষেধাজ্ঞার শুরুতেই প্রতিটি জেলে পরিবারকে ৭৭ কেজি করে ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে।
এএডি/