টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে এমপি লুৎফর রহমান মতিনের ভাই আখতারুজ্জামান বাবুলের নির্দেশে এক শিক্ষকসহ বিএনপির ৪ নেতার ওপর সন্ত্রাসীর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার হলপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, এলেঙ্গা পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আনোয়ার হোসেন ফকির, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলামিন হোসেন, প্রবাসী হাফিজুর রহমান ও শিক্ষক শফিকুল ইসলাম। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীরা জানান, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিন এমপি হন। নির্বাচনের পর থেকেই উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে তার নিজ ভাই, ভাতিজাসহ গ্রামের কিছু উঠতি বয়সীর বেপরোয়া ছেলেদের নিয়ে সংঘবদ্ধ একটি বলয় গড়ে তোলেন। যারা প্রতিনিয়ত এলেঙ্গা পৌর এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসবাদ, ডাকাতি, নেশার রাজত্ব পরিচালনা করে আসছেন। নির্বাচনের জয়লাভ করার পর মতিন সাহেব চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবাদ ও বালু ব্যবসায়ীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান। কিন্তু ১৫ দিন যেতে না যেতেই তার লোকজন এমপি সাহেবের লোক পরিচয়ে এলেঙ্গার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা দাবি ও উত্তোলন করে আসছেন। বিএনপির পদধারী নেতারা এ বিষয়ে প্রথম থেকেই প্রতিবাদ করে আসছেন।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, গত বুধবার এমপি সাহেবের এলাকা রাজাবাড়ী গ্রামের জলিল ড্রাইভারের ছেলে উজ্জ্বল সরকারের সাথে রকিব সিকদারের বাক-বিতণ্ডা ও ঝগড়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রাতে উজ্জ্বল সরকারকে মারার জন্য খোঁজাখুঁজি করছিল সন্ত্রাসীরা। পরে উজ্জ্বল সরকারের গাড়ি ভাঙচুর করে এবং তার ওপর হামলা চালালে তিনি তার ব্রাইট লাইফ মাদকাসক্ত কেন্দ্রে দৌড়ে গিয়ে গেইট লক করে প্রাণে বাঁচেন।
পরে আনুমানিক সোয়া ১২টার দিকে আলামিনের অফিসে গিয়ে অতর্কিত হামলা করে এলেঙ্গা পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আনোয়ার হোসেন ফকির, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলামিন হোসেন, প্রবাসী হাফিজুর রহমান ও শিক্ষক শফিকুল ইসলামকে রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী প্রবাসী হাফিজুর রহমান জানান, আমি বাজার করতে এসে কিছুসময়ের জন্য আলামিন ভাইয়ের অফিসে বসে কথা বলছিলাম। এসময় এমপি সাহেবের ভাতিজা রকিব সিকদার, রুবেল সিকদারসহ ১৫-২০ জন সন্ত্রাসী আমাদের হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে।
আলামিন হোসেন বলেন, এমপির ভাইয়ের নির্দেশে তার ভাতিজা রকিব সিকদার, রুবেল সিকদারসহ সন্ত্রাসীরা হত্যার উদ্দেশ্যে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
আনোয়ার হোসেন ফকির বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে দলের পক্ষে কাজ করছি। কিন্তু এখন এমপির লোকজন এলাকায় দখলদারিত্ব চালাচ্ছে। প্রতিবাদ করায় আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং নিজেদের এমপির লোক বলে পরিচয় দেয়।
তবে এ ঘটনায় আখতারুজ্জামান বাবুল বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এমপি লুৎফর রহমান মতিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেওএম তৌফিক আজম বলেন, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।