নড়াইল সদরে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে মোস্তফা কাজি (৬৫) নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ভদ্রবিলা ইউনিয়নের মহারাগ গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।
নিহত মোস্তফা কাজি (গাজি) ওই গ্রামের আকমল গাজির ছেলে। নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ রকিবুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার বিকেলে ভদ্রবিলা প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ভদ্রবিলা ও পলইডাঙ্গা এই দুই গ্রামের মধ্যে একটি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন খেলা চলাকালীন মাঠের ভেতরেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
এই বিরোধের মীমাংসা করতে গত বৃহস্পতিবার পাশাপাশি দুই গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক বসে। তবে স্থানীয়রা দীর্ঘ চেষ্টা করেও সেই সালিশে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে আজ শুক্রবার আবারও দ্বিতীয় দফায় সালিশ বৈঠক বসার কথা ছিল।
বিকেল তিনটার দিকে মোস্তফা কাজি স্থানীয় ভদ্রবিলা বাজারে সালিশ বৈঠকের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তিনি ভদ্রবিলা বাজারের কাছাকাছি পৌঁছানো মাত্রই ওত পেতে থাকা ৭ থেকে ৮ জনের একটি সশস্ত্র দল অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা মোস্তফা কাজিকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে তার চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই হত্যাকাণ্ডের খবর মহারাগ ও আশপাশের গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে নড়াইল সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ রকিবুল ইসলাম জানান, ফুটবল খেলার বিরোধ এবং সালিশের ব্যর্থতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করতে এবং তাদের দ্রুত গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে।
সময়ের আলো/আআ