বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিসিএস ক্যাডার নিয়োগে দুর্নীতি ও দলীয়করণের অভিযোগে ইতোমধ্যে অনুসন্ধান ও তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এ কথা বলেন তিনি।
দুদকসহ সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।
দেশের সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি দফতর মিলিয়ে বর্তমানে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি শূন্য পদ রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব শূন্য পদ পূরণে ছয় মাস, এক বছর ও পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস-এর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, গত ১৬ বছরে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১২ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে, ৯ জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ৫৬৪ জন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিসিএসসহ অন্যান্য সরকারি চাকরির নিয়োগে প্রচলিত ‘মুখস্থনির্ভর’ সিলেবাসের পরিবর্তে দক্ষতাভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা বর্তমান কমিশনের অন্যতম লক্ষ্য।
এ জন্য বিসিএস পরীক্ষার সিলেবাস পরিবর্তনে একটি কমিটি করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কমিটি বিভিন্ন দেশের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার সিলেবাস পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সংযোজনের কাজ করছে। মৌখিক পরীক্ষার ক্ষেত্রেও কমিশন অচিরেই ‘যোগ্যতাভিত্তিক’ সাক্ষাৎকার চালু করতে যাচ্ছে। এতে প্রার্থীর জ্ঞান, দক্ষতা ও মনোভাব মূল্যায়ন করা হবে। পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে এক বছরের মধ্যে একটি বিসিএস সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে।
সরকারদলীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মচারীদের হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ শূন্য ছিল। এই শূন্যপদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির, অর্থাৎ প্রথম থেকে নবম গ্রেডে খালি রয়েছে ৬৮ হাজার ৮৮৪টি পদ। দ্বিতীয় শ্রেণির, অর্থাৎ দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেডে শূন্যপদ ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি। এ ছাড়া ত্রয়োদশ থেকে ষোড়শ গ্রেডে শূন্য পদ রয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি, সপ্তদশ থেকে বিংশতম গ্রেডে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি এবং অন্যান্য ৮ হাজার ১৩৬টি পদ শূন্য। এসব শূন্য পদ পূরণে ছয় মাস, এক বছর ও পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী তিনি বলেন, ৬ মাসের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২ হাজার ৮৭৯টি, ১ বছরের মধ্যে ৪ হাজার ৪৫৯টি এবং ৫ বছরের মধ্যে ৩ হাজার ১১০টি শূন্যপদে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
আবদুল বারী বলেন, কর্মপরিকল্পনায় বর্ণিত ‘স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে পাঁচ লাখ কর্মচারী নিয়োগ’ বিষয়ে অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নিয়োগের সর্বশেষ অবস্থা এবং শূন্য পদে নিয়োগের তথ্য পাঠাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ বিনির্মাণে মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ, বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতাই একমাত্র মাপকাঠি হিসাবে বিবেচনা করা হবে। কেউ যাতে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত না হয়, সেটাও নিশ্চিত করা হবে। এতে সরকারি অর্থের অপচয়ও রোধ হবে।
তিনি জানান, বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ৯৩ শতাংশ পদ মেধাভিত্তিক। বাকি পদগুলোর মধ্যে ৫ শতাংশ রাখা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ১ শতাংশ এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য ১ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত আছে।
অধস্তন আদালতে বিচারাধীন মামলা ৪০ লাখ ৪২ হাজার
বিএনপির সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়ার এক প্রশ্নের জবাবে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অধস্তন আদালতে ৪০ লাখ ৪১ হাজার ৯২৪টি মামলা বিচারাধীন।
আইনমন্ত্রী জানান, মামলার জট নিরসনে ৮৭১ আদালত এবং ২৩২টি বিচারকের পদ সৃজন করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৩০৪টি বিচারকের পদ সৃজন প্রক্রিয়াধীন। নতুন ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগের কার্যক্রম চলমান। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে অধস্তন আদালতের স্টেনো-টাইপিস্ট, স্টোনোগ্রাফার, অফিস সহায়ক ও চালকের শূন্য পদে ৭০৮ জন বিচার বিভাগীয় কর্মচারী নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। বিভিন্ন পদে আরও ৫৫৩ কর্মচারী নিয়োগ চলমান।
আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং মামলার জট নিরসনে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে স্বাধীন করার ক্ষেত্রে কোনো আইনি বা প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা ছিল না। তবে ফ্যাসিস্ট সরকার বিচারকদের বদলি পদায়নের ক্ষেত্রে দলীয় আনুগত্যকে মুখ্য মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করে। তারা সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে দলের প্রতি অনুগত বিচারকদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করত। আর যারা স্বাধীনভাবে বিচারকার্য পরিচালনার চেষ্টা করতেন, সুপ্রিম কোর্টের সহায়তায় তাদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বদলির মাধ্যমে কার্যত শাস্তি দেওয়া হতো। বর্তমান সরকার সেই পথ ধরে না হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সততা-দক্ষতাসহ বিচারকদের বিচারিক আচরণই হবে মানদণ্ড। সেই লক্ষ্যেই আইন মন্ত্রণালয় সুপ্রিম কোর্টে সুপারিশ করবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের। সরকারের এ ক্ষেত্রে একক ক্ষমতা নেই।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, মামলা দায়েরের সময় এজাহারে অভিযুক্তের দলীয় পরিচয় উল্লেখ থাকে না। ফলে কোন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ভুয়া মামলাগুলোর মধ্যে কতসংখ্যক তদন্তে বা আদালতের রায়ে মিথ্যা/ভিত্তিহীন হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপণ করা সম্ভব নয়। এ সংক্রান্ত পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই।
সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারের বিষয়ে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ সচেতন। এ লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার মামলা প্রত্যাহারের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছিল। সেই কমিটির নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো হত্যা মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি। রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে বর্তমান সরকার কমিটি করেছে। রাজনৈতিক মামলাগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রত্যাহারের কার্যক্রম চলমান।
সরকারি দলের রফিকুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তিতে গড়ে কত সময় লাগে, তা নিয়ে কোনো সমীক্ষা হয়নি। এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য সরকারের কাছে নেই। ফৌজদারি দণ্ডবিধি অনুযায়ী, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৮০ দিন ও দায়রা আদালতে ৩৬০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বিধান আছে। দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তির কোনো সময়সীমা না থাকলেও কিছু গাইডলাইন আছে। মামলার প্রকৃতি ও জটিলতাভেদে কোনো মামলা এক বছরে নিষ্পত্তি হতে পারে। আবার কোনো মামলায় পাঁচ বছর বা তার থেকে বেশি সময় লাগতে পারে।
পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে অগ্রাধিকার
সরকারদলীয় সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদের প্রশ্নের জবাবে পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানান, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পের ডিপিপি তৈরি করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটির প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সাল থেকে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত।
শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও কৃষি মন্ত্রণালয় মিলে ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার খাল খনন বা পুনঃখনন করবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ও জুন ২০২৬ পর্যন্ত কাবিখা, কাবিটা ও টিআরের মাধ্যমে আরও ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন ও সংস্কার করবে।
মন্ত্রী জানান, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব খাল খনন কর্মসূচির আওতায় চলতি অর্থবছরে জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৩৫৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের সংস্থান রয়েছে। এর মধ্যে গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত ১২৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন শেষ হয়েছে। এ হিসাবে দৃশ্যমান অগ্রগতি ৩৫ শতাংশ বলেও জানান তিনি।
আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে ২৯২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ, ৩১৬ কিলোমিটার নদনদীর ড্রেজিং ও ডুবোচর অপসারণ, ৮০০টি পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো নির্মাণ এবং ২৫০ কিলোমিটার নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান পানি সম্পদমন্ত্রী।
বার কাউন্সিলের নির্বাচন বন্ধের কারণ জানতে চান আখতার
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন বন্ধের কারণ হিসেবে বিদ্যুৎ সংকট নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে তা নিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তোলেন এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।
জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং এর অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তে সরকারের কোনও হস্তক্ষেপ নেই। আসন্ন ঢাকা বার নির্বাচনের কারণে বার কাউন্সিলের নির্বাচন পেছানো হয়েছে।
পরে একটি কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘তুমি সব বোঝো মানি। যতটুকু বোঝো না ততটুকুই আমি’।
মন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় সদস্য দুইটি বিষয়ের কথা বলেছেন প্যান্ডেমিক এবং অ্যাক্ট অব গড। কিন্তু আইনের মধ্যে থাকা অন্য যে কোনও যুক্তিসংগত কারণ অংশটি উনি এড়িয়ে গেছেন। যেটা আনেননি সেটা হলো, ফর এনি আদার রিজনেবল কজ। আইনের মধ্যে আছে। ওই পার্টটা তিনি আনেননি। যতটুকু ওই একটা কবিতায় পড়েছিলাম। ‘তুমি সব বোঝো মানি। যতটুকু বোঝো না ততটুকুই আমি।’ উনি সব বোঝেন। এটা যেমন : মানি, কিন্তু যতটুকু উনার প্রয়োজন ততটুকু উনি আনেন। এর বাইরে একটু আনেন না।’
আসাদুজ্জামান জানান, বার কাউন্সিল একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে নিজস্ব স্বাধীনতায় সিদ্ধান্ত নেয়। ঢাকা বারসহ বেশ কয়েকটি বার অ্যাসোসিয়েশন থেকে বার কাউন্সিলের কাছে অনুরোধ এসেছে। ঢাকা বার এশিয়ার বৃহত্তম বার, যেখানে ২২ হাজারের বেশি আইনজীবী আছেন। তাদের নিজস্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া সামনে রেখে তারা এই নির্বাচনটি পেছানোর অনুরোধ করেছিলেন। বার কাউন্সিল তাদের সেই অনুরোধ রক্ষা করেছে মাত্র।
জ্বালানি সংকট বা রাজনৈতিক কারণে নির্বাচন পেছানো হয়েছে এমন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরেই বার কাউন্সিল নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা চাই, একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হোক। বার কাউন্সিল স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এখানে সরকারের পক্ষ থেকে কোনও হস্তক্ষেপ করা হয়নি। আইনজীবীদের দাবি এবং নির্বাচনের পরিবেশ নির্ঝঞ্ঝাট রাখতেই বার কাউন্সিল তাদের মেধা ও প্রজ্ঞা খাটিয়ে এই সময় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।
সময়ের আলো/জেডআই