আটলান্টিকের স্রোতব্যবস্থা ভেঙে বিপর্যয়ের শঙ্কা

সময়ের আলো ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

আটলান্টিক মহাসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্রোতব্যবস্থা এখন আগের ধারণার তুলনায় অনেক বেশি ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে নতুন গবেষণায় দেখা গেছে।

2026-04-17T05:03:36+00:00
2026-04-17T05:03:36+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
আটলান্টিকের স্রোতব্যবস্থা ভেঙে বিপর্যয়ের শঙ্কা
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:০৩ এএম   (ভিজিট : ৩৮)
এই স্রোতব্যবস্থাটির নাম আটলান্টিক মেরিডিওনাল ওভারটার্নিং সার্কুলেশন বা অ্যামক। ছবি : এআই
আটলান্টিক মহাসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্রোতব্যবস্থা এখন আগের ধারণার তুলনায় অনেক বেশি ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে নতুন গবেষণায় দেখা গেছে। বাস্তবতার সঙ্গে বেশি মিল থাকা জলবায়ু মডেলগুলো এই স্রোতটির ব্যাপারে সবচেয়ে নেতিবাচক তথা দুর্বল হয়ে ভেঙে পড়ার পূর্বাভাস দিচ্ছে। 

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ফলাফল ‘খুবই উদ্বেগজনক’। কারণ এই স্রোত ভেঙে পড়লে ইউরোপ, আফ্রিকা এবং আমেরিকা বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। এই স্রোতব্যবস্থাটির নাম আটলান্টিক মেরিডিওনাল ওভারটার্নিং সার্কুলেশন বা অ্যামক। এটি বৈশ্বিক জলবায়ুব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্রোতটি ইতিমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গত ১ হাজার ৬০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। 

এর আগে ২০২১ সালে বিজ্ঞানীরা এটিতে একটি টিপিং পয়েন্ট বা হঠাৎ পরিবর্তনের সংকেত শনাক্ত করেছিলেন। অতীতে পৃথিবীতে এই স্রোত সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। খবর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের।

অ্যামক কীভাবে কাজ করে : এটি উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের গরম পানি ইউরোপ ও আর্কটিকের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে পানি ঠান্ডা হয়ে ভারী হয়ে নিচে নেমে যায় এবং গভীর সমুদ্র দিয়ে আবার ফিরে আসে। যদি এই প্রক্রিয়া ভেঙে পড়ে, তা হলে উষ্ণমণ্ডলীয় বৃষ্টিপাতের অঞ্চল বদলে যাবে, যা লাখ লাখ মানুষের খাদ্য উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল। পশ্চিম ইউরোপে তীব্র শীত ও গ্রীষ্মে খরা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি আটলান্টিক উপকূলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা অতিরিক্ত ৫০ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

গবেষণায় যা উঠে এসেছে : গবেষণাটি ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এতে চারটি ভিন্ন পদ্ধতিতে বাস্তব তথ্য ব্যবহার করে মডেলগুলো যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘রিজ রিগ্রেশন’ নামের একটি পদ্ধতি সবচেয়ে ভালো ফল দিয়েছে, যা আগে জলবায়ু বিজ্ঞানে খুব বেশি ব্যবহৃত হয়নি। ভবিষ্যতে জলবায়ু কেমন হবে তা বোঝার জন্য বিজ্ঞানীরা অনেক ধরনের কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করেন। কিন্তু অ্যামকের মতো জটিল ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এসব মডেলের ফলাফল খুব ভিন্ন ভিন্ন হয়। কিছু মডেল বলছে ২১০০ সালের মধ্যে স্রোতটির আর তেমন কোনো পরিবর্তন হবে না।

তবে নির্ভরযোগ্য কিছু মডেল বলছে যদি ধীরে ধীরে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়েও আনা হয় তারপরও স্রোতটি প্রায় ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত ধীর হয়ে যেতে পারে। নতুন গবেষণায় বাস্তব সমুদ্রের তথ্যের সঙ্গে এসব মডেল মিলিয়ে দেখা হয়েছে, যাতে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস বের করা যায়। এতে অনিশ্চয়তা অনেক কমে এসেছে। 

গবেষণায় দেখা গেছে, ২১০০ সালের মধ্যে অ্যামক প্রায় ৪২ থেকে ৫৮ শতাংশ পর্যন্ত ধীর বা দুর্বল হয়ে যেতে পারে, যা প্রায় নিশ্চিতভাবেই স্রোতটিকে একসময় ভেঙে ফেলবে।

বিজ্ঞানীরা যা বলছেন : গবেষণার প্রধান লেখক ড. ভ্যালেন্টিন পোর্টম্যান বলেন, আমরা দেখেছি অ্যামক আগে করা ধারণার তুলনায় আরও বেশি দুর্বল হবে। এর মানে এটি এখন টিপিং পয়েন্টের আরও কাছাকাছি।

 জার্মানির পটসডাম ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক স্টেফান রাহমস্টর্ফ বলেন, এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং উদ্বেগজনক ফলাফল। ‘নেতিবাচক’ বা খারাপ পূর্বাভাস দেওয়া মডেলগুলোই বাস্তবের সঙ্গে বেশি মিলে যাচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, আমি এখন আরও বেশি চিন্তিত যে এই শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়েই আমরা এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছাতে পারি, যেখান থেকে অ্যামক বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে।

রাহমস্টর্ফ গত ৩৫ বছর ধরে অ্যামক নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি বলেন, আগে আমরা ভাবতাম ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা হয়তো ৫ শতাংশ। তখনই আমরা বলতাম, এই ঝুঁকি অনেক বেশি। এখন দেখা যাচ্ছে, এটি ৫০ শতাংশের বেশি হতে পারে। গত ১ লাখ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় জলবায়ু পরিবর্তনগুলো তখনই ঘটেছে, যখন অ্যামক তার অবস্থা পরিবর্তন করেছে। 

অ্যামক দুর্বল হয়ে যাচ্ছে কারণ আর্কটিকে তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। ফলে সেখানে সমুদ্রের পানি আগের মতো দ্রুত ঠান্ডা হতে পারছে না। উষ্ণ পানি হালকা হওয়ায় তা সহজে নিচে নামতে পারে না। একই সঙ্গে বেশি বৃষ্টির পানি সমুদ্রের লবণাক্ততা কমিয়ে দেয়, ফলে পানির ঘনত্ব আরও কমে যায়। এতে একটি প্রতিক্রিয়াশীল চক্র তৈরি হয়, যা অ্যামককে আরও ধীর ও দুর্বল করে দেয়। এই সিস্টেমটি খুব জটিল এবং প্রাকৃতিক ওঠানামার প্রভাবেও পরিবর্তিত হয়, তাই নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন। তবে বিজ্ঞানীরা এখন নিশ্চিত যে বড় ধরনের দুর্বলতা আসছে, যা আগামী কয়েক দশকের মধ্যেই বড় প্রভাব ফেলতে পারে। 

অ্যামক মডেল করা কঠিন, কারণ এটি পুরো আটলান্টিকজুড়ে পানির লবণাক্ততা ও ঘনত্বের সূক্ষ্ম পার্থক্যের ওপর নির্ভর করে। নতুন বিশ্লেষণে অনিশ্চয়তা কমেছে। কারণ গবেষকরা এমন মডেলগুলো বেছে নিয়েছেন যেগুলো দক্ষিণ আটলান্টিকের পানির লবণাক্ততার বাস্তব চিত্র ভালোভাবে দেখাতে পারে। এই কারণেই গবেষণাটি ‘খুবই বিশ্বাসযোগ্য’ বলে মনে করেন রাহমস্টর্ফ। 

তিনি আরও বলেন, বাস্তবে অ্যামকের ধীরগতি গবেষণার পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি হতে পারে। কারণ মডেলগুলোতে গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলা পানি পুরোপুরি ধরা হয়নি, যা সমুদ্রের পানিকে আরও মিষ্টি করে দিচ্ছে। 

রাহমস্টর্ফের ভাষায়, এই কারণেই বাস্তব পরিস্থিতি সম্ভবত আরও খারাপ।

এফআর


  বিষয়:   আটলান্টিক মহাসগর  স্রোতব্যবস্থা  ভেঙে  বিপর্যয়  শঙ্কা 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: