মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কিংবা সাকিব আল হাসানের মতো অভিজ্ঞরা দলে নেই। তামিম ইকবাল নতুন ভূমিকায়, বর্তমান বোর্ড প্রেসিডেন্ট। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারশূন্য হলেও বাংলাদেশ দল কিন্তু একেবারে অনভিজ্ঞ নয়। মেহেদী হাসান মিরাজ, নাজমুল হোসেন শান্ত, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদরা দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের অংশ। বয়সে তরুণ হলেও তানজিদ হাসান, তাওহীদ হৃদয়, রিশাদ হোসেন, নাহিদ রানারা পরীক্ষিত পারফরমার। অন্তত বাংলাদেশে খেলতে আসা অনভিজ্ঞ নিউজিল্যান্ড দলের চেয়ে ঢের এগিয়ে বর্তমানের বাংলাদেশ।
শুক্রবার থেকে মিরপুরে শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। কিউইদের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের ব্যাপারে আত্মপ্রত্যয়ী টাইগার অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। সিরিজ জয়ই হবে বড় অর্জন, গতকাল ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানান এ অলরাউন্ডার।
১৪ মাস পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে ভারতের রাওয়ালপিন্ডিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে মুখোমুখি হয়েছিল দুদল। সেখানে ৫ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছিল শান্ত-মিরাজরা। রাচিন রবীন্দ্রর অনবদ্য এক সেঞ্চুরিতে ম্যাচ জিতেছিল কিউইরা। টম ল্যাথাম খেলেছিলেন ৫৫ রানের এক ঝলমলে ইনিংস। সেঞ্চুরিয়ান রাচিনকে ছাড়াই এবার বাংলাদেশের এসেছে নিউজিল্যান্ড। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-আইপিএল নিয়ে ব্যস্ত আছেন এ কিউই অলরাউন্ডার। শুধু রাচিনই নয়, আরও অনেক বড় নাম ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ নিয়ে ব্যস্ত। এ জন্য কচিকাঁচার দল নিয়ে ঢাকায় এসেছে নিউজিল্যান্ড। তবে রাচিন না থাকলে ল্যাথাম আছেন, যার কাঁধে এবার অধিনায়কের দায়িত্ব।
অনভিজ্ঞ দল হলেও প্রতিপক্ষের প্রতি পূর্ণ সমীহ বাংলাদেশ অধিনায়ক মিরাজের। প্রথম ওয়ানডে সামনে রেখে গতকাল তিনি জানান, ‘নিউজিল্যান্ড দলটাকে নিয়ে ছোট করে দেখার কোনো কিছু নেই। প্রফেশনাল প্লেয়ার হিসেবে আমাদের প্রত্যেকটা ম্যাচ অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং আমরা চেষ্টা করব আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে রেজাল্ট করার জন্য। আমরা যদি সিরিজ জিততে পারি এটা আমাদের জন্য অনেক একটা বড় অ্যাচিভমেন্ট হবে। যেহেতু আমাদের র্যাঙ্কিংয়ের একটা বিষয় আছে। আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজটা।’
নিউজিল্যান্ড সিরিজ সামনে রেখে তিন সপ্তাহ অনুশীলন করেছে মিরাজ-মোস্তাফিজরা। প্লেয়াররা মাঠের খেলায় ব্যস্ত থাকলেও মাঠের বাইরে এ সময় অনেক ঘটনা ঘটে গেছে। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড বিদায় নিয়েছে, অ্যাডহক কমিটির প্রধান হয়ে বোর্ড প্রেসিডেন্টের চেয়ারে আসীন হয়েছেন তামিম। তবে মাঠের বাইরে এসব নিয়ে ভাবনা নেই মিরাজের। সিরিজকে পাখির চোখ করেছেন। কিউইদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে আরও দুই সিরিজ জয়ের সুখস্মৃতি রয়েছে। সবশেষ গেল মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে। তাই মাঠের বাইরে যাই ঘটুক, খেলাতেই যত মনোযোগ তার এবং দর্শকদের ভালো খেলা উপহার দেওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে দলের ব্যাটিং পজিশন নিয়ে অনেক কথাবার্তা হচ্ছে। এ বিষয়ে মিরাজ বলেন, ‘একটা ব্যাটসম্যানকে এনাফ সুযোগ দেওয়া উচিত আমার কাছে মনে হয়। ব্যাটসম্যান যদি তিন থেকে চারটা ম্যাচ খেলে একই পজিশনে, তখন সে নিজে থেকেই বুঝতে পারবে যে আসলে আমি পারফর্ম করতে পারিনি। এজ এ ক্যাপ্টেন হিসেবে আমার এটাই প্ল্যান থাকবে যে, প্রত্যেকটা ব্যাটসম্যানের ক্ষেত্রে যেন পর্যাপ্ত সুযোগ থাকে।’ ২০২৭ সাল পর্যন্ত মিরাজের কাঁধেই থাকছে ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব, অর্থাৎ সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ তার নেতৃত্বেই খেলবে দল। একজন ক্যাপ্টেনকে দীর্ঘ সময় দেওয়াকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন মিরাজ।
কিউই ম্যাচের আগে উইকেট এবং কন্ডিশনের পাশাপাশি দলের বোলিং ডিপার্টমেন্ট নিয়েও কথা বলেন টাইগার অধিনায়ক, ‘মোস্তাফিজ ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে খুব ভালো বোলিং করেছে। শরিফুল ও নাহিদ রানাও দুর্দান্ত বোলিং করেছে এবং ওদের বোলিংটা অনেক বেশি কাজে আসবে। তানজিম সাকিবের ব্যাপারে আপডেট হলো ও লাস্ট থ্রি উইকস তো খুব ভালো প্র্যাকটিস করেছে এবং ও তো প্র্যাকটিস ম্যাচও খেলেছে। ও এভেইলঅ্যাবল টু প্লে।’
মিরপুরের উইকেট প্রসঙ্গে অধিনায়ক বলেন, ‘পাকিস্তান সিরিজে আমরা খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছি এবং আমরা চেষ্টা করব এই সিরিজটাও ভালো উইকেটে খেলার জন্য। প্লেয়াররা যদি সবাই পারফর্ম করতে পারে উইকেটটা অনেক সময় ম্যানেজ করে খেলতে হয়। এই প্রথম মেবি ১১টার দিকে ম্যাচ খেলব। যেহেতু আমাদের হোম কন্ডিশন, আমরা অনেক দিন প্র্যাকটিস করেছি এটা আমাদের অ্যাডজাস্ট হয়ে যাবে।’
এফআর