বিশ্ব ক্রিকেটে ফের ফিক্সিংয়ের বড়সড় কেলেঙ্কারি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এবার আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটের (আকু) আতশি কাঁচের নিচে পড়েছে ক্রিকেট কানাডা। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ের চিপক স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কানাডার ম্যাচটি নিয়ে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। একটি তথ্যচিত্রের রেশ ধরে এই তদন্ত শুরু করেছে আইসিসি।
ইএসপিএন-ক্রিকইনফোর খবর অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া- উভয় পর্যায়েই কানাডা ক্রিকেটে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ তদন্ত করছে ‘আকু’। সম্প্রতি কানাডিয়ান অনুসন্ধানী প্রোগ্রাম ‘দ্য ফিফথ এস্টেট’-এর ৪৩ মিনিটের একটি তথ্যচিত্র ‘করাপশন, ক্রাইম অ্যান্ড ক্রিকেট’ সিবিসিতে প্রচারিত হওয়ার পর বিষয়টি সামনে আসে।
তথ্যচিত্রের দাবি অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিতে কানাডার অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়ার করা পঞ্চম ওভারটি ঘিরেই মূল সন্দেহ। টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে অধিনায়ক হওয়া অফস্পিনার বাজওয়া যখন বল করতে আসেন, তখন নিউজিল্যান্ডের স্কোর ছিল ৩৫/২। তিনি ওভারের শুরুতেই একটি ‘নো বল’ এবং এরপর লেগ সাইডে একটি ‘ওয়াইড’ বল করেন। ওই ওভারে তিনি মোট ১৫ রান দেন। ম্যাচে ১৭১ রান তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ড মাত্র ১৫.১ ওভারে ৮ উইকেটের বড় জয় তুলে নিয়ে সুপার এইট নিশ্চিত করেছিল। গ্লেন ফিলিপস ও রাচিন রবীন্দ্রর ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ম্যাচটি একপেশে হয়ে যায়।
তদন্তের জালে কেবল ফিক্সিং নয়, উঠে এসেছে প্রশাসনিক দুর্নীতির ভয়ংকর চিত্রও। ফাঁস হওয়া একটি অডিও রেকর্ডে সাবেক কোচ খুররাম চৌহান অভিযোগ করেছেন, বোর্ডের তৎকালীন প্রভাবশালী সদস্যরা নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে দলে নিতে তাকে চাপ দিতেন। এমনকি ওই রেকর্ডে ম্যাচ পাতানোর চেষ্টার দাবিও করা হয়েছে।
একই সুর শোনা গেছে সাবেক কোচ পুবুদু দাসানায়েকের কণ্ঠেও। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে তাকে নির্দিষ্ট খেলোয়াড় নির্বাচনে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তার। কথা না শুনলে চুক্তি বাতিলের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে দাসানায়েকে ক্রিকেট কানাডার বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে বরখাস্ত করার মামলা লড়ছেন।
কানাডা ক্রিকেটে অস্থিরতা নতুন নয়। সাবেক সিইও সালমান খানের নিয়োগ নিয়ে আইসিসি আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল, যিনি পরে চুরির দায়ে অভিযুক্ত হন। চলতি মাসের শুরুতে আমজাদ বাজওয়ার পরিবর্তে আরভিন্দর খোসা বোর্ডের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন।
পুরো বিষয়টি নিয়ে আইসিসির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের অন্তর্বর্তীকালীন মহাব্যবস্থাপক অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ বলেন, কার্যপ্রণালী অনুযায়ী আমরা এই অভিযোগগুলোর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। আইসিসির আওতাভুক্ত যেকোনো দুর্নীতি বা প্রশাসনিক অনিয়মের বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করি।
/কহু