লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এই পদক্ষেপ ওই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় শাহবাজ শরিফ বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘সাহসী ও বিচক্ষণ’ কূটনৈতিক তৎপরতার ফলেই এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাকিস্তান লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি অবিচল সমর্থন বজায় রাখবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি বজায় রাখতে যেকোনো প্রচেষ্টায় পাশে থাকবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) হোয়াইট হাউস থেকে এক ঘোষণায় জানানো হয়, ইসরায়েল এবং লেবানন সরকার ১০ দিনের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। ট্রাম্প জানান, তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনার পর এই ঐকমত্যে পৌঁছেছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৮৩ সালের পর এই প্রথম দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে এই সংক্রান্ত একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সফরে রয়েছেন। গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া চার দিনের এই সফরে তিনি সৌদি আরব ও কাতার সফর শেষ করে এখন তুরস্কে অবস্থান করছেন। কাতারে অবস্থানকালে তিনি দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও সংকট নিরসনে আলোচনা করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তান একটি প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। সম্প্রতি ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রথম দফার সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য হলো ইউএস-ইরান যুদ্ধ বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো পুনরায় সচল করা।
/কহু