ঝালকাঠি পৌর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জলাশয় ভরাট করে ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। জমিটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের হলেও তাদের কাজ থেকে নেওয়া হয়নি অনুমতি। বরিশাল-ঝালকাঠি-পিরোজপুর-বাগেরহাট-খুলনা জাতীয় মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে এই নির্মাণ কাজ চলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সওজ কর্তৃপক্ষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝালকাঠি শহরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় এ ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণের জন্য পৌরসভা থেকে ৭ লাখ ৭ হাজার ৮৮৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি দরপত্রের কার্যাদেশ পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মাহমুদুল ইসলাম নির্মাণ কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
এদিকে, গত ১৫ এপ্রিল ঝালকাঠি জেলা প্রশাসনের সভা কক্ষে ‘হাইওয়ে মাস্টার প্ল্যান-২০৪০’ বাস্তবায়নে অংশীজন সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বিষয়টি উত্থাপন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার শরীফ খান। পাশাপাশি এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক এবং পৌর প্রশাসক বরাবর চিঠিও প্রেরণ করেন তিনি।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট মহাসড়কটি ৪-লেনে উন্নতিকরণের পরিকল্পনা রয়েছে। সওজের অধিগ্রহণকৃত জমি যথাযথ প্রক্রিয়ায় অনুমতি ছাড়া অন্যকোনো সরকারি/বেসরকারি কাজে ব্যবহারের সুযোগ নেই। ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণ কাজে ‘ভূমি ব্যবহার নীতিমালা-২০১৫’ অনুসরণ করা হয়নি। এমতাবস্থায়, উক্ত স্থানে কোনো স্থাপনা/ ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণ না করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সওজের মালিকানাধীন ওই জমিতে ২০২৩ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু একটি মডেল মসজিদ নির্মাণ করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সড়ক ও জনপথ বিভাগের অনুমোদন না পাওয়ায় মডেল মসজিদ নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। অথচ এখন পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করেই ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সড়ক বিভাগ সূত্র জানায়, কৃষ্ণকাঠি মৌজার এই জমিটি সম্পূর্ণ ব্যক্তি মালিকানা থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ অধিগ্রহণ করে। জায়গাটি একটি জলাশয়। ‘প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০’ এবং ‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫’ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুমোদন ছাড়া জলাধারের শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। আইন লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
জমির মালিক কামরুল ইসলাম তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, এ দাগের বেশির ভাগ জমির মালিকানা আমাদের। অধিগ্রহণ করার পরেও এ ধরনের উন্নয়ন কাজে জমির প্রকৃত মালিককে নোটিশ করার বিধান রয়েছে। কিন্তু আমরা ও সড়ক বিভাগ এই বিষয়ে কিছুই জানি না। পৌর কর্তৃপক্ষের এ ধরনের কাজ সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত।
ঠিকাদার মাহমুদুল ইসলাম বলেন, আমি কাজের অনুমতি পেয়েছি। তাই কাজ শুরু করে দিয়েছি। জমির মালিকানার বিষয়টি পৌর কর্তৃপক্ষ দেখবে।
পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হাসান বলেন, ঝালকাঠি পৌরসভার একটি ট্রাকস্ট্যান্ড থাকা একান্ত জরুরি। সে কারণে এ প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করা হবে।
এফআর