দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা, পরিকল্পনা বদল আর বাস্তবায়নের ধীরগতিতে থমকে থাকা পূর্বাচল ক্রিকেট স্টেডিয়াম প্রকল্পে নতুন করে গতি ফেরানোর আশ্বাস দিল সরকার। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, আর দেরি নয়- দ্রুত ও পরিকল্পিত উদ্যোগেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে এগোবে।
শনিবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবালকে নিয়ে সরেজমিন পূর্বাচল স্টেডিয়াম এলাকা পরিদর্শন করেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পূর্বাচল ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জন্য বরাদ্দকৃত জমি অক্ষত রয়েছে। ইনশাআল্লাহ, এখানে অবশ্যই একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে।’
তিনি জানান, শুধু ক্রিকেট নয়, এই ভেন্যুকে ঘিরে বহুমুখী ক্রীড়া সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে দেশের বিভিন্ন খেলার উন্নয়নেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ইতিমধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। ‘আমরা ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি, মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে বসেছি। তারা পুরো বিষয়টি আমাদের বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন’, বলেন তিনি।
আন্তর্জাতিক সূচি মাথায় রেখেই দ্রুত কাজ শুরুর তাগিদ দিয়েছেন তিনি। ‘আমরা আশা করছি ২০২৭ সালে এশিয়া কাপ এবং ২০৩১ সালে ক্রিকেট বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে আমরা চাই, ক্রিকেট বোর্ড প্রথম ধাপের কাজ দ্রুত শুরু করুক’, যোগ করেন প্রতিমন্ত্রী।
দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই প্রকল্পকে ঘিরে নানা বিতর্কও হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে আর কোনো বিতর্ক বা অস্থিরতা চান না বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি। ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে যাওয়া, যাতে এই প্রকল্প নিয়ে আর কোনো নাটক তৈরি না হয়’, মন্তব্য করেন তিনি।
সব ধরনের জটিলতা নিরসন করে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করার প্রতিশ্রুতিও দেন আমিনুল হক। ‘সব বকেয়া বিষয় সমাধান করে আমরা খুব দ্রুত সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে চাই, ইনশাআল্লাহ। পূর্বাচলে একটি আধুনিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পাশাপাশি বহুমুখী ক্রীড়া সুবিধা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য’, বলে শেষ করেন তিনি।
সবমিলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে পূর্বাচল স্টেডিয়াম প্রকল্প। উল্লেখ্য, এর আগ নাজমুল হাসান পাপনের বোর্ড থাকাকালীন বড় করে উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাজের গতি ছিল না। এরপর ফারুক আহমেদ কিংবা আমিনুল ইসলাম বুলবুল বিসিবির চেয়ারে বসলেও আলোর মুখ দেখেনি এই প্রকল্প।
স্টেডিয়ামের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকে ক্রিকেট বোর্ড প্রধান তামিম ইকবাল বলেন, ‘আজকে (গতকাল) মন্ত্রী (ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী) এসেছেন, আমরা আজকে পুরো ডিজাইনটা তাকে শো করেছি, প্রেজেন্ট করেছি। এখানে কিছু পরিবর্তন জরুরি। পরিবর্তন করব শুধু পরিবর্তন করার জন্য না। কিছু কিছু ডিজাইন পরিবর্তন করা জরুরি।’
তামিম আরও যোগ করেন, ‘এটা অনেক বড় একটা প্রোপাটি। এখানে আমাদের চেষ্টা থাকবে ক্রিকেটের সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রী বললেন কিছু কিছু স্পোর্টসকে আমরা যদি যুক্ত করে নিতে পারি তা হলে আমাদের স্পোর্টসের জন্য ভালো হবে। টাকার দিক থেকে ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থান হয়তো বা অন্য অনেক বোর্ডের চেয়ে ভালো। আমাদেরও দায়িত্ব অন্য স্পোর্টসকে দেখাশোনা করা।’
বার বার প্রকল্প থমকে যাওয়া স্টেডিয়ামের ডিজাইনে বেশ কিছু পরিবর্তন অতীতে আনা হয়েছিল। পূর্বাঞ্চলে ডিজাইন প্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘যারা আমাদের এটার ডিজাইন করেছেন তাদের সঙ্গে আলোচনা করব। অন্য কারোর সঙ্গে যদি কথা বলার দরকার তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এনএসসির সঙ্গে একসঙ্গে মিলে, কারণ এখানে সরকারের অনেক বড় ইনভেস্টমেন্টের দরকার পড়বে যদি আমরা একটা বড় স্টেডিয়াম করতে চাই।’
সময়ের আলো/আআ