দীর্ঘ অনিশ্চয়তা, বয়কট আর প্রশাসনিক টানাপড়েনের পর অবশেষে প্রাণ ফিরেছে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে। সবচেয়ে বড় আসর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল)। একসময় যেখানে লিগ আয়োজনই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল, সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে শনিবার দলবদলের প্রথম দিনেই জমে উঠে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ। সাধারণত সারা বছর নীরব থাকা বিসিবি ভবনের সিসিডিএম কার্যালয় দলবদল এলেই সরব হয়ে ওঠে।
এবার সেই ব্যস্ততা ছিল আরও বেশি। কারণ, আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বোর্ডকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে ক্লাবগুলোর বয়কটের ঘোষণায় একসময় স্থবির হয়ে পড়েছিল পুরো লিগ। পরে সেই বোর্ড ভেঙে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পরই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। ক্লাবগুলোও শেষ পর্যন্ত লিগে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
দুই দিনের দলবদলের প্রথম দিনেই অনলাইন ও সরাসরি মিলিয়ে ৭৯ জন ক্রিকেটার দলবদল করেছেন। সকাল থেকেই সিসিডিএম কার্যালয়ে ছিল ভিড়, ছিল সংবাদমাধ্যমের তৎপরতাও। বাইরে থেকে পুরো পরিবেশে উৎসবের আমেজ থাকলেও ভেতরে ভেতরে অনেক ক্রিকেটারের মুখে ছিল হতাশার ছাপ।
এবারের লিগে রেলিগেশন না রাখা এবং সুপার লিগ বাতিলের সিদ্ধান্তে দলগুলোর খরচ কমানোর প্রবণতা স্পষ্ট। বিসিবির দেওয়া ২৫ লাখ টাকার অনুদানের বাইরে খুব বেশি ব্যয় করতে চাইছে না বেশিরভাগ ক্লাব। ফলে প্রায় সব ক্রিকেটারকেই আগের তুলনায় অর্ধেক পারিশ্রমিকে খেলতে হচ্ছে। প্রথম সারির ক্রিকেটারদের বাইরে অন্যদের ক্ষেত্রে পারিশ্রমিক আরও কমেছে। অনেকেই অসন্তুষ্ট হলেও সুযোগ হারানোর শঙ্কায় প্রকাশ্যে কিছু বলতে চান না।
তবে বাস্তবতার এই কঠিন দিকের মাঝেও লিগ শুরু হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন। তিনি বলেন, ‘লিগটা যে শেষ পর্যন্ত হচ্ছে, এটাই তো একটা বড় স্বস্তি। পরিস্থিতি যে রকম ছিল, তাতে লিগ না হলে তো আরও বড় ক্ষতি হতো। এখন অন্তত অর্ধেকটা হলেও কাজ হয়েছে। সবাই খেলার মধ্যে আছে।’
দলবদলের বাজারেও ছিল চেনা উত্তাপ। কাগজে-কলমে এবারও শিরোপার প্রধান লড়াইয়ে এগিয়ে আবাহনী লিমিটেড ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের। তাদের সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। প্রথম দিনেই বড় চমক দেখিয়েছে মোহামেডান। তারা দলে নিয়েছে ডিপিএলে সর্বাধিক সেঞ্চুরির মালিক এনামুল হক বিজয়কে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন নাইম শেখ ও পারভেজ হোসেন। বোলিং বিভাগে আছেন রিশাদ হোসেন ও তরুণ পেসার রিপন মণ্ডল।
অন্যদিকে গত আসরে মোহামেডানের হয়ে খেলা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবার নাম লিখিয়েছেন প্রাইম ব্যাংকে। একই দলে যোগ দিয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম ও তানজিম হাসান সাকিব। চ্যাম্পিয়ন আবাহনীও ধরে রেখেছে তাদের মূল শক্তি, নতুন করে যুক্ত হয়েছে সৌম্য সরকার, জাকের আলী ও সাব্বির রহমান।
এবারের আসরে নজর কাড়ছে নবাগত ঢাকা লেপার্ডও। তারা গড়েছে ভারসাম্যপূর্ণ দল, যেখানে অভিজ্ঞ মুমিনুল হক ও মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে সুযোগ পেয়েছে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কয়েকজন প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটার। অনিশ্চয়তার অন্ধকার কাটিয়ে নতুন করে শুরু হচ্ছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের পথচলা। তবে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি আর্থিক বাস্তবতা আর কাঠামোগত সিদ্ধান্তগুলোও যে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে, তা প্রথম দিন থেকেই স্পষ্ট।
সময়ের আলো/আআ