স্মার্টফোনের প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত পাল্টাচ্ছে, আর তার সঙ্গে বদলে যাচ্ছে ব্যাটারি ব্যবহারের ধরনও। একসময় রাতভর ফোন চার্জে রাখা বিপজ্জনক মনে করা হলেও আধুনিক ডিভাইসে সেই ভয় অনেকটাই কেটেছে। তবে স্মার্টফোনের দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা ও ব্যাটারির কর্মক্ষমতা ঠিক রাখতে এখনও কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। স্মার্টফোন চার্জিং ও ব্যাটারির সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় কিছু টিপস রইল আজ-
আধুনিক ব্যাটারি ও চার্জিং সুরক্ষা
বর্তমান সময়ের স্মার্টফোনগুলো অনেক বেশি বুদ্ধিমান। ডিভাইসগুলো এমনভাবে তৈরি যে, চার্জ পূর্ণ হয়ে গেলে এগুলো নিজে থেকেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ফলে রাতভর চার্জে রাখলেও ব্যাটারির বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা এখন আর নেই। এমনকি অনেক ফোন এখন সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিজের সমস্যা নিজেই সমাধান করতে সক্ষম।
চার্জিং অবস্থায় যা এড়িয়ে চলা উচিত
স্মার্টফোন বিশ্লেষকদের মতে, চার্জে থাকা অবস্থায় ভারী কাজ করা ডিভাইসের আয়ু কমিয়ে দেয়। বিশেষ করে চার্জে থাকা অবস্থায় গেম খেলা বা ভিডিও এডিটিং করলে প্রসেসরের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে।
অভ্যন্তরীণ ক্ষতি : অতিরিক্ত তাপ শুধু ব্যাটারি নয়, বরং ফোনের প্রসেসর, ক্যামেরা সেন্সর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।
পারফরম্যান্স ড্রপ : ফোন যতবেশি উত্তপ্ত হবে, এর কাজ করার গতি ততটাই ধীর হয়ে যাবে।
যদি আপনার ফোনে বাইপাস চার্জিং সুবিধা না থাকে, তবে চার্জে দিয়ে ফোন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।
অ্যান্ড্রয়েড ফোনের চার্জিং গতি বাড়ানোর কৌশল
অনেকের অভিযোগ থাকে যে ফোন পুরোনো হলে চার্জ হতে অনেক সময় নেয় কিংবা দ্রুত চার্জ ফুরিয়ে যায়। আপনার অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের চার্জিং গতি আগের মতো ফিরিয়ে আনতে নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে পারেন-
ব্যাক কাভার খুলে রাখা : চার্জ দেওয়ার সময় ফোনের ব্যাক কভার খুলে রাখুন। এতে ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হওয়ার ঝুঁকি কমে এবং চার্জ দ্রুত হয়।
অব্যবহৃত অ্যাপ ডিলিট করা : ফোনে জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো প্রসেসরে চাপ সৃষ্টি করে। এগুলো পরিষ্কার করলে চার্জিং পারফরম্যান্স উন্নত হয়।
ওয়্যারলেস চার্জিং বর্জন : ওয়্যারলেস চার্জিং সুবিধাজনক হলেও এটি কিছুটা বেশি তাপ উৎপন্ন করে, যা চার্জিংয়ের গতি কমিয়ে দিতে পারে। দ্রুত চার্জের জন্য তারযুক্ত চার্জার ব্যবহার করাই শ্রেয়।
ডিভাইসের বয়স : সাধারণত স্মার্টফোনের বয়স দুই বছর পেরিয়ে গেলে ব্যাটারির সক্ষমতা কিছুটা কমে আসে। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট এবং পরিমিত ব্যবহার ফোনকে সচল রাখতে সাহায্য করে। স্মার্টফোনের সুস্থতা বজায় রাখতে ডিজিটাল হাইজিন মেনে চলা জরুরি। অতিরিক্ত তাপমাত্রা থেকে ডিভাইসকে দূরে রাখুন এবং সবসময় অরিজিনাল চার্জার ব্যবহারের চেষ্টা করুন।
সময়ের আলো/আআ