দেশে ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজি সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত দাম নিশ্চিত করতে এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে সরকার।
রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের লিখিত প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এসব তথ্য জানান।
একইসঙ্গে বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য রুখতে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পাশাপাশি মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, এলপিজি’র নির্ধারিত দাম নিশ্চিত করতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেশের সকল পুলিশ সুপারদের অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান চালানো। মজুতদারির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জরিমানাসহ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের বিশেষ টিম দেশজুড়ে বাজার মনিটরিং ও নিবিড় তদারকি করছে। এছাড়া সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে এলপিজি অপারেটরদের সংগঠন ‘লোয়াব’-কে নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংসদে মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে দেশের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৯৮.৬৭ শতাংশই আমদানি নির্ভর। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ চেইন যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম’ ব্যবহার করে আমদানির তথ্য নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আমদানিতে কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা বা অনিয়মের আভাস পেলেই বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
/ইউএমএইচ