অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে প্রধান করে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১৪ সদস্যের এই কমিটি চলমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো সার্বিক মূল্যায়ন করবে।
রোববার (২০ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। কমিটির সদস্যদের মধ্যে অন্যতম হলেন- এলজিআরডি মন্ত্রী, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী, সমাজকল্যাণমন্ত্রী, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী ও খাদ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই কমিটি তিন মাসে একবার বৈঠক করবে। প্রতিবছর মার্চ মাসে কমিটির বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় ১৮টি কর্মসূচির কার্যক্রম মূল্যায়ন করবে এবং পরবর্তী বছরের বাজেট নির্ধারণ করবে। তালিকায় থাকা কর্মসূচিগুলো হলো ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি; বয়স্ক ভাতা কার্যক্রম, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা কার্যক্রম; প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির কার্যক্রম; অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম; ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম; বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা ও অন্যান্য ভাতা কার্যক্রম; জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং আহত ব্যক্তিদের মাসিক সম্মানী ভাতা কার্যক্রম; মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি; ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট; অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান; খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি; ভিজিএফ কর্মসূচি; কৃষক কার্ড কার্যক্রম; মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী কার্যক্রম; রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দুস্থ শ্রমিকদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম; খাল খনন কর্মসূচি; বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।
মন্ত্রীদের ব্যক্তিগত সফরে সরকারি সেবার দাম দিতে হবে:মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের ব্যক্তিগত সফরে সরকারিভাবে গাড়ি ও আবাসনের ব্যবস্থা করা হলে প্রচলিত নিয়মে সেবার মূল্য পরিশোধ করতে হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সম্প্রতি এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে। এতে বলা হয়, দেশে বা বিদেশে কোনো সফর সরকারি না ব্যক্তিগত তা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করতে হবে। সরকারি সফরের ক্ষেত্রে বাহন ও আবাসনের ব্যবস্থার ব্যয় সরকার বহন করবে। তবে ব্যক্তিগত সফরে এসব সুবিধা গ্রহণ করলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যয় নিজেকেই পরিশোধ করতে হবে। সার্কিট হাউজ বা সরকারি রেস্ট হাউজ ছাড়া নিজ বাড়ি কিংবা অন্যত্র মন্ত্রীদের অবস্থানের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রাচার সংক্রান্ত বিদ্যমান নির্দেশাবলী প্রযোজ্য হবে। তাদের সফরকালে সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপার নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনাটি ইতোমধ্যে দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট জারি করা আগের নির্দেশনাটি বাতিল করা হয়েছে।
এএডি/