একদিকে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড দোরিয়েলতন গোমেজের গোলক্ষুধা, অন্যদিকে সৌরভ দেওয়ানের হ্যাটট্রিক দুই তারকার ঝলকে ফেডারেশন কাপের কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করেছে বসুন্ধরা কিংস ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। নিজেদের দুর্গ কিংস অ্যারেনায় পুলিশ এফসিকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দাপট দেখিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে কুমিল্লায় আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের রক্ষণকে তছনছ করে ৪-০ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে এমন জয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থেকেই বসুন্ধরা আর দ্বিতীয় অবস্থানে থেকে মোহামেডান প্লে-অফ নিশ্চিত করে।
কিংস অ্যারেনায় ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে মেতে উঠলেও প্রথম সুবর্ণ সুযোগটি পেয়েছিল পুলিশ এফসি। ৩৫ মিনিটে কিংসের ডি-বক্সে ডিফেন্ডার ইউসুফের হাতে বল লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। টেবিলের শীর্ষে থেকে ম্যাচ শুরু করা পুলিশের সামনে লিড নেওয়ার দারুণ সুযোগ ছিল। কিন্তু ফরোয়ার্ড পাওলো এনরিকের নেওয়া শট ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে কপাল পোড়ে পুলিশের। এই পেনাল্টি মিসই যেন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পেনাল্টির ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের অষ্টম বিপদে পড়ে পুলিশ। কিংসের ফরোয়ার্ড ফয়সাল আহমেদ ফাহিম বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়লে তাকে ফাউল করেন ইসমাইল। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট কিক থেকে গোলরক্ষক বিপরীত দিকে ঝাপ দিলে লক্ষ্যভেদ করেন দোরিয়েলতন। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় কিংস।
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে কিংস। ৫২ মিনিটে মাঠের বাঁ-দিক দিয়ে একক নৈপুণ্যে পুলিশের রক্ষণভাগ তছনছ করে দেন দোরিয়েলতন। রাকিব হোসেনের পাস ধরে একজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢোকার পর আরও দুই ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে ডান পায়ের নিখুঁত নিচু শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। এরপর ম্যাচের ৮২ মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এই ব্রাজিলিয়ান। উইঙ্গার রাকিবের চমৎকার এক আড়াআড়ি ক্রসে লাফিয়ে উঠে দর্শনীয় হেডে বল জালে জড়ান তিনি। হ্যাটট্রিকের পরও দমে যাননি ৩৬ বছর বয়সি এই অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার। ম্যাচের শেষ দিকে ৮৮ মিনিটে ব্যক্তিগত চতুর্থ ও দলের হয়েও চতুর্থ গোলটি করে পুলিশের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে দেন তিনি। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ে পুলিশের হয়ে এম এস বাবলু একটি গোল শোধ করেন। তবে ওই গোলটি কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে, পুলিশের স্বপ্নভঙ্গ ঠেকাতে পারেনি। বড় জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে ফেডারেশন কাপের পরবর্তী রাউন্ডে পা রাখল কিংস, আর হারের তেতো স্বাদ নিয়ে বিদায় নেয় পুলিশ এফসি।
কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ফুটবল খেললেও আরামবাগের রক্ষণ ভাঙতে শুরুতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে মোহামেডানকে। ৩৬ মিনিটে ইমানুয়েল কেকের ফ্রি-কিক পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে গেলে আক্ষেপ বাড়ে সাদা-কালো শিবিরে। তবে তিন মিনিট পরই কাক্সিক্ষত গোলের দেখা পায় তারা। ৩৯ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে কেকের বাড়ানো ক্রস আরামবাগ ডিফেন্ডাররা ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে বল পান জুয়েল। দ্রুত গতিতে বক্সে ঢুকে ডান পায়ের কোনাকুনি শটে লক্ষ্যভেদ করে দলকে এগিয়ে নেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধের ৬৮ মিনিটে সৌরভ একবার জালে বল পাঠালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। এর কিছুক্ষণ পর আরামবাগ সমতায় ফেরার একটি ভালো সুযোগ হাতছাড়া করলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি মোহামেডানের হাতে চলে যায়। ৭৬ মিনিটে বক্সে জটলার মধ্যে কাজী রাহাতের এক ভুলে বল পেয়ে যান সৌরভ; নিখুঁত হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি।
এর রেশ কাটতে না কাটতেই ৮৩ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে জোরালো নিচু শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। তবে সৌরভের আসল চমক তখনও বাকি ছিল। ম্যাচের শেষ দিকে ৮৯ মিনিটে অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে সতীর্থের থ্রু পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাম পায়ের দারুণ শটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। এতে মোহামেডানের ৪-০ গোলের জয় নিশ্চিত হয়।