ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেছেন, গতকাল (চট্টগ্রামে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ) এবং আজ ক্যাম্পাসগুলোতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ছাত্রদল অত্যন্ত ধৈর্য ও সহনশীলভাবে মোকাবেলা করেছে। দুটো ঘটনাই গুপ্ত রাজনীতি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় চরম নোংরামির অশ্লীল ফটোকার্ডকে কেন্দ্র করে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে এসব কথা লেখেন তিনি। ছাত্রদল এই দুটি ইস্যুতে গত ২ বছর ধরে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিবাদ করছে বলেও জানানো হয়।
ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম শেষে ইসলামী ছাত্র শিবিরসহ সব পক্ষকে অনুরোধ করছি, আমরা কেউ যেন নতুনভাবে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত না হই মন্তব্য করে ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তারা নিজেরা কোনো উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারবে না এবং কারও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে প্রতিক্রিয়া দেখানো যাবে না।
তিনি আরও লেখেন, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে প্রতিনিয়ত সেই পরিস্থিতি তৈরি করছে। আজ উদ্ভূত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার মুহূর্তে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সালাউদ্দিন আম্বার আবারও সোশ্যাল মিডিয়ায় উসকানিমূলক স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছে।
বিগত সময়ে বিকৃত মানসিকতার সালাউদ্দিন আম্বার জিয়া পরিবারকে নিয়ে বিভিন্ন অশ্লীল, নোংরা স্ট্যাটাসই শুধু নয়,আজ ছাত্রদলকে...ভাষায় গালি দিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও লেখেন, সালাউদ্দিন আম্বারকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, ছাত্রদল শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়/রাজশাহী জেলা,মহানগর ইউনিটে সমৃদ্ধ নয়, আম্বারের জন্মস্থান যেখানে তার শ্রদ্ধেয় পিতা-মাতাসহ পরিবারের সদস্যরা বসবাস করেন, সেখানে যেমন ছাত্রদল রয়েছে, ঠিক তেমনি বাংলাদেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, জেলা, মহানগর, উপজেলায় ছাত্রদলের লাখ লাখ নেতাকর্মী রয়েছে। ৫ আগস্টের পর এই সালাউদ্দিন আম্বারদের আবির্ভাব, কিন্তু ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রামে উত্তীর্ণ। তারা মজলুম, তারা নির্যাতিত, তারা নিপীড়িত। অথচ সেই মজলুমদের নিয়েই ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে আবির্ভাব সালাউদ্দিন আম্বার আজ এ ধরনের অশ্রাব্য ভাষায় প্রতিনিয়ত গালি দিয়ে যাচ্ছে, চরিত্র হরণ করে যাচ্ছে।
আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীসহ ছাত্র সমাজের কাছে নিবেদন রাখলাম, সেই সঙ্গে যে ছাত্রসংগঠন আম্বারকে বি টিম হিসেবে প্রতিনিয়ত ব্যবহার করছে, তাদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছি বলে মন্তব্য করে তিনি লেখেন, সালাউদ্দিন আম্বারকে বলছি, কোন মানসিক বিকারগ্রস্তকে রক্ষার দায়িত্ব ছাত্রদল নেয়নি।
৭১-এর লাখো শহীদের রক্তে কেনা এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান কয়েক হাজার ছাত্র-জনতার রক্তে কেনা বাংলাদেশে কেউ অপকর্ম করে রক্ষা পায়নি, ভবিষ্যতেও রক্ষা পাবে না বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, সংশোধন হওয়ার আহ্বান জানাই। সালাউদ্দিন আম্বারসহ সবাইকে গণতান্ত্রিক ভাষায় গঠনতান্ত্রিক সমালোচনা করার জন্য আহ্বান রইল, আমাদের ভুল ত্রুটিগুলো অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সমালোচনা, প্রয়োজনে রাজপথে প্রতিক্রিয়া দেখাবেন কিন্তু অশ্লীল, নোংরামি চিরতরে বন্ধ করুন। ক্যাম্পাস ও শিক্ষার পরিবেশকে স্বাভাবিক রাখার জন্য এবং স্থিতিশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা সবাই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করব, সেই কামনা করছি।
/ইউএমএইচ