অস্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি চললেও পারস্য উপসাগর থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শুরু হয়েছে ছায়াযুদ্ধ। পাল্টাপাল্টি জাহাজ জব্দের ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম আবারও ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) লিন্ডন সেগ এর জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্যে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। গত সোমবার থেকে এ পর্যন্ত মাত্র ৯টি ট্যাঙ্কার এই পথ অতিক্রম করতে পেরেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ফলে বোমা ও মিসাইল বর্ষণ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও, বর্তমানে তা রূপ নিয়েছে ভয়াবহ নৌ-অবরোধে। উভয় দেশই একে অপরের ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে নিজেদের অনুকূলে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী এখন যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, নৌবাহিনীর অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ এই প্রণালীতে প্রবেশ বা বের হতে পারবে না। ইরান একটি চুক্তিতে না আসা পর্যন্ত এই পথ ‘পুরোপুরি সিল’ করে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রণালীতে মাইন স্থাপনকারী যেকোনো ইরানি নৌকাকে ‘ধ্বংস’ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
পেন্টাগন জানিয়েছে, ভারত মহাসাগরে ইরান থেকে তেল বহনকারী একটি নিষিদ্ধ ট্যাঙ্কার আটক করেছে মার্কিন বাহিনী। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম দাবি করেছে, বিনা অনুমতিতে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টাকালে তারা দুটি মালবাহী জাহাজ জব্দ করেছে। এর আগে গত মঙ্গলবার একটি কন্টেইনারবাহী জাহাজে ইরানি গানবোট থেকে গুলি চালানোর খবর দেয় যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস।
ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার সতর্কবার্তা জারি করে বলেছে, এই অঞ্চলে বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জাহাজগুলোকে যেকোনো সন্দেহজনক আচরণের রিপোর্ট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
/কহু