জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘আজকে যারা জামায়াত-শিবিরকে গুপ্ত বলে গালি দিচ্ছে, বিগত ১৭ বছর তারাই বিদেশে লুকিয়ে ছিল। দেশের সংকটকালে তারা পাশে ছিল না। অথচ এখন তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রদলকে হায়েনার মতো শিক্ষার্থীদের ওপর লেলিয়ে দিচ্ছে।’
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের একটি পার্কের মিলনায়তনে জেলা জামায়াত আয়োজিত ওয়ার্ড সভাপতি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘দেশের মানুষ বারবার রক্ত দিয়েছে, আমরা আর রক্ত দিতে চাই না। কিন্তু এই সরকার পুরোনো কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পথে হাঁটা শুরু করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে বিএনপির যেসব ‘গুপ্ত উপদেষ্টা’ ছিল, তারাই এখন এই সরকারের মন্ত্রী হয়েছে। কাজেই জনগণ ভালো করেই জানে আসল ‘গুপ্ত’ কারা।’
বগুড়ায় এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন জামায়াতের ওপর নাকি স্বৈরাচারের আত্মা ভর করেছে। আমরা বলতে চাই, বিএনপি সরকারকে আসলে কর্তৃত্ববাদী শাসনের ভূতে ধরেছে। এই ভূতের আছর থাকার কারণেই সরকার জনগণের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ছলচাতুরি করছে এবং সামনের দিকে এগোতে পারছে না।’
সংবিধান সংস্কার ও গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে ৩৩টি রাজনৈতিক দল সংবিধান সংস্কারে একমত হলেও বিএনপি গুরুত্বপূর্ণ ১০টি পয়েন্টে দ্বিমত পোষণ করেছে। তারা এখন গণভোটের রায়কে বাতিল করতে চায়। সংবিধানের দোহাই দিয়ে বিএনপি সরকার মূলত ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থাকেই টিকিয়ে রাখার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’
সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণের গণভোটের ম্যান্ডেট যদি মূল্যায়ন করা না হয়, তবে মানুষ আবারও রাজপথে নেমে আসবে। আমাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, রাজপথে কীভাবে আন্দোলন করতে হয় তা জামায়াতের জানা আছে। আমাদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করবেন না।’
ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের এই সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা মোবারক হোসেন, ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মোহাম্মদ আবুবকর, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান এবং ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেবসহ জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
/কহু