রাজধানীর গুলশানের লেকপাড় ও গুদারাঘাট এলাকায় ফুটপাত দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশান-১ সংলগ্ন গুদারাঘাট এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
রাজধানীর গুলশান-১ এর দিক থেকে গুদারাঘাটের পাশের ফুটপাতে প্রায় অর্ধ শতাধিক অস্থায়ী দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে গুলশান লেক পাড় ধরে ফুটপাতে গড়ে ওঠা দোকানগুলোও উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। রাজউক এবং ডিএনসিসির কর্মকর্তারা ছাড়াও বিপুল পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন এ অভিযানে।
রাজউক জানায়, আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প ও প্রাতিষ্ঠানিক ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা গ্রহণ এবং সেই অনুযায়ী ভবন নির্মাণ ও ব্যবহার করা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক। এ নিয়ম অমান্য করে নির্মাণাধীন বা নির্মিত ভবনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালিত করা হয়।
অভিযানে অংশ নেওয়া ডিএমপির গুলশান জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান বলেন, এ ধরনের অভিযানের মাধ্যমে জনস্বার্থ সংরক্ষণ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
অভিযান প্রসঙ্গে গুলশান ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, নিরাপদ ও পরিবেশ বান্ধব ঢাকা বিনির্মাণে প্রতিটি সড়ক, লেক, লেকের পাড়, ওয়াকওয়ে ইত্যাদি সর্বসাধারণের জন্য নিরাপদ করার লক্ষে ট্রাফিক গুলশান বিভাগ সবসময় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গুলশান, বারিধারা দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কূটনৈতিক এলাকা, এই এলাকার সকল সড়ক, লেকের পাড়ের রাস্তা সমূহ যাতে পরিবেশ বান্ধব এবং নিরাপদ হয় তারই অংশ হিসেবে ডিএমপির ট্রাফিক গুলশান বিভাগ, গুলশান ক্রাইম বিভাগ এবং ডিএনসিসির যৌথ উদ্যোগে আজকের এই অভিযান। এই অভিযান চলমান থাকবে।
যদিও এ অভিযান কর্মসূচিতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণবশত তারা উপস্থিত ছিলেন না।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ দোকানের কারণে সাধারণ পথচারীদের চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছিল।
সময়ের আলো/জেডআই