প্রতিপক্ষ দলের ক্রিকেটার হয়েও একজন তরুণ লেগ স্পিনারকে নিয়ে এমন উচ্ছ্বাস খুব একটা দেখা যায় না। কিন্তু রিশাদ হোসেনের নাম উঠতেই সেই ব্যতিক্রমী ছবিটাই দেখা গেল ইশ সোধির চোখেমুখে। অভিজ্ঞ এই কিউই লেগ স্পিনার শুধু প্রশংসাতেই থামেননি, বরং স্পষ্ট করে জানিয়েছেন- বাংলাদেশের এই তরুণ স্পিনারকে তিনি টেস্ট ক্রিকেটে দেখতে মুখিয়ে আছেন।
সোধির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুই হয়েছিল টেস্ট ক্রিকেট দিয়ে। ২০১৩ সালে চট্টগ্রামেই হয়েছিল তার অভিষেক। যদিও সময়ের সঙ্গে তিনি সীমিত ওভারের বিশেষজ্ঞে পরিণত হয়েছেন, তবুও লাল বলের ক্রিকেটের প্রতি টানটা রয়ে গেছে আগের মতোই। আর সেই জায়গা থেকেই রিশাদের সম্ভাবনা তাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে।
বর্তমানে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডেতে নিজেকে প্রমাণ করতে শুরু করেছেন রিশাদ হোসেন। তবে টেস্ট ক্রিকেটে এখনও তার জায়গা পাকাপোক্ত হয়নি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ম্যাচ খেলার সুযোগও খুব বেশি পান না। অনেক সময় দলে থেকেও পর্যাপ্ত ওভার বল করার সুযোগ মেলে না। ফলে লম্বা সংস্করণের জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা অর্জনের পথটা কিছুটা কঠিনই হয়ে উঠেছে তার জন্য।
তবে এসব বাস্তবতা খুব একটা জানেন না সোধি। তিনি দেখেছেন রিশাদের স্কিল, ভিন্নতা আর সম্ভাবনা। আর সেটাই তাকে আশাবাদী করে তুলেছে, ‘সে সত্যিই খুব ভালো খেলছে। সে যে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে বিগ ব্যাশে এত ভালো বোলিং করতে পেরেছে, তাতেই বোঝা যায় সে একজন অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় স্পিন বোলার। এশিয়ান লেগ স্পিনারদের সাধারণত দেখা যায়, তাদের বল প্রায়শই বেশ নিচু, স্কিডি এবং ফ্ল্যাট হয়। কিন্তু সে বেশ প্রথাগত, মানে ওপর দিয়ে বল করে এবং অনেক বাউন্স পায়। সম্ভবত এই অঞ্চলে (এশিয়ায়) এমন বোলার অনেক দিন দেখা যায়নি।’
রিশাদের এই বাউন্স আর টার্ন তৈরির সামর্থ্যই তাকে আলাদা করে তুলছে বলে মনে করেন সোধি। আধুনিক ক্রিকেটে যেখানে লেগ স্পিনারদের ভূমিকা অনেকটাই সীমিত হয়ে গেছে, সেখানে এমন একজন বোলারকে টেস্টে দেখা গেলে সেটি হবে দারুণ এক সংযোজন, ‘সে দারুণ সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার, বলে অনেক ঘূর্ণন তৈরি করতে পারে। মাঝেমধ্যে তাকে ইনস্টাগ্রামে বার্তা পাঠাই। তার সঙ্গে যোগাযোগ থাকাটা বেশ দারুণ ব্যাপার। আমার মনে হয়, তার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল এবং আশা করি সে টেস্ট ক্রিকেটেও সুযোগ পাবে। টেস্ট ক্রিকেটে আবার লেগ স্পিনার খেলতে দেখাটা সত্যিই দারুণ ব্যাপার হবে, আজকাল বেশ বিরল, তাই না? সেই স্কিল তার অবশ্যই আছে।’
দুজনের মধ্যে সম্পর্কটা শুধু মাঠের লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত কথাবার্তাও হয় তাদের মধ্যে। রিশাদের খেলা, উন্নতি আর মানসিকতা নিয়েও আগ্রহ রয়েছে সোধির, ‘রিশাদের সঙ্গে কয়েকবার কথা হয়েছে। যে শুধু ক্রিকেট নিয়েই কথা হয়েছে, তা নয়। মাঝেমধ্যেই তার সঙ্গে কথা বলি। এই সিরিজ চলাকালীন সম্ভবত দেখা হবে এবং সে কেমন খেলছে, এই পরিস্থিতিতে কোনটা তার জন্য ভালো কাজ করছে, ইত্যাদি বিষয়ে একটা ধারণা নেব। সে খুবই প্রতিভাবান বোলার এবং আমার বিশ্বাস সে দিন দিন আরও ভালো হতে থাকবে।
আন্তর্জাতিক এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি উভয় পর্যায়েই তার শুরুটা দুর্দান্ত হয়েছে এবং আমার মনে হয়, দিন দিন আরও ভালো হতেই থাকবে।’ প্রতিপক্ষ দলের একজন অভিজ্ঞ লেগ স্পিনারের কাছ থেকে এমন প্রশংসা নিঃসন্দেহে বড় প্রাপ্তি রিশাদের জন্য। এখন দেখার বিষয়, এই সম্ভাবনাকে কতটা কাজে লাগিয়ে নিজেকে দীর্ঘ ফরম্যাটেও প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন তিনি।
সময়ের আলো/আআ