ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমে বইছে স্বস্তি আর আত্মবিশ্বাসের হাওয়া। টানা তিনটি সিরিজ জয়ের ধারাবাহিকতায় দল যেন নতুন ছন্দে, নতুন বিশ্বাসে এগোচ্ছে। আর সেই ইতিবাচক আবহ নিয়েই এক দিন পর শুরু হতে যাওয়া নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে নামছে টাইগাররা।
শনিবার অনুশীলনের আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে দলের বর্তমান পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টির কথাই শোনালেন স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ। তার ভাষায়, ‘জয় সবসময়ই ভালো অনুভূতি দেয়। ড্রেসিংরুম এখন খুবই আনন্দময়।’
তবে শুধু জয়েই সন্তুষ্ট থাকতে চান না কোচিং স্টাফ। উন্নতির জায়গা সবসময়ই থাকে- এটি মনে করিয়ে দিয়ে মুশতাক বলেন, ‘কোচ হিসেবে আমরা সবসময় উন্নতির জায়গা খুঁজি। জিতলেও অন্তত ১ শতাংশ উন্নতির সুযোগ থাকে। টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জেতা বাংলাদেশের জন্য ভালো খবর।
টি-টোয়েন্টি তরুণদের জন্য এটি নিজেদের প্রমাণ করার দারুণ সুযোগ। একই সঙ্গে আমরা বেঞ্চ স্ট্রেংথ শক্ত করতে চাই। বিশ্বকাপের আগে সবাই যেন পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলে প্রস্তুত থাকে। জয় আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।’ বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ফেরার এই সময়টা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। গত বছরের ডিসেম্বরের পর এই ফরম্যাটে মাঠে নামছে দল। মাঝখানে বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট থাকলেও নানা কারণে অংশ নিতে পারেনি টাইগাররা। সামনে ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে এখন থেকেই দল গঠনের কাজটা গুছিয়ে নিতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট।
মুশতাক পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, সাদা বলের ক্রিকেটে শক্তিশালী হওয়াই এখন মূল লক্ষ্য, ‘আমাদের লক্ষ্য খুব পরিষ্কার, সাদা বলের ক্রিকেটকে শক্তিশালী করা। টি-টোয়েন্টি তরুণদের আত্মবিশ্বাস দেয়। সাকলায়েন, রিপনদের মতো নতুনরা আসছে। এই ফরম্যাটে ভালো করলে তারা ওয়ানডেতেও সুযোগ পাবে। তাই টি-টোয়েন্টি এখন দল গড়ার এবং বেঞ্চ স্ট্রেংথ শক্ত করার বড় প্ল্যাটফর্ম।’
স্পিন বিভাগ নিয়েও আশাবাদী তিনি। স্কোয়াডে রয়েছেন নাসুম আহমেদ, শেখ মেহেদী হাসান এবং রিশাদ হোসেনÑ যারা সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে নজর কাড়ছেন।
স্পিনারদের পারফরম্যান্স নিয়ে মুশতাক বলেন, ‘তারা দারুণ করছে। স্পিনাররা খুব ভালো বল করছে, যদিও পেসাররাও উইকেট পাচ্ছে। উইকেটে কিছুটা টার্ন আছে। এ ধরনের পিচে বল ঘোরাতে হলে ভালো রেভস দরকার। গত ম্যাচেও দেখেছেন, উভয় দলের স্পিনাররাই বল ঘোরাতে পেরেছে।’
তবে একাধিক স্পিনার দলে থাকায় একাদশ নির্বাচন সহজ হবে না- এ কথাও স্বীকার করেছেন তিনি। যদিও সেই সিদ্ধান্তের ভার তিনি ছেড়ে দিয়েছেন টিম ম্যানেজমেন্টের ওপর, ‘একাদশ ঠিক করা কোচ, অধিনায়ক ও নির্বাচকদের কাজ। তবে আমার কাজ হলো সবাইকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখা।’
ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস, তরুণদের উদ্যম আর কোচিং স্টাফের পরিকল্পনা- সবকিছু মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে ইতিবাচক অবস্থানে বাংলাদেশ। এখন প্রমাণের পালা, এই আত্মবিশ্বাস মাঠের পারফরম্যান্সে কতটা প্রতিফলিত হয়।
সময়ের আলো/আআ