জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাধবী মারমার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় এক নেত্রী।
রোববার (২৬ এপ্রিল) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বরাবর এই আবেদন জমা দেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক চন্দ্রা চাকমা।
আপিল আবেদন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চন্দ্রা চাকমা অভিযোগ করে বলেন, মাধবী মারমা বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ না করেই গত ২১ এপ্রিল মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন, যা সম্পূর্ণ অবৈধ।
চন্দ্রা চাকমা আরও জানান, তিনি নিজেও এই আসনের একজন প্রার্থী ছিলেন এবং বিএনপি ও নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন।
তিনি পার্বত্য জেলা পরিষদের আইনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সাধারণ জেলা পরিষদ ও পার্বত্য জেলা পরিষদের আইন ভিন্ন। আইন অনুযায়ী, কোনো সদস্য পদত্যাগ করতে চাইলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয় এবং সেটি গৃহীত হওয়ার পর পদ শূন্য হয়। মাধবী মারমা সেই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে, মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে জেলা পরিষদ ও নির্বাচন কমিশন— উভয় পক্ষের আইন লঙ্ঘন করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
অবশ্য চন্দ্রা চাকমার এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন বিএনপি প্রার্থী মাধবী মারমা। তিনি জানান, তিনি গত ২০ এপ্রিলই পদত্যাগ করেছেন এবং তার পদত্যাগপত্র অনুমোদিত হয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে পৌঁছে গেছে। হলফনামায় পদত্যাগের তথ্য উল্লেখ না থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্ধারিত ফরম্যাটে এই তথ্য দেওয়ার মতো কোনো অপশন না থাকায় তা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
তবে এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা. আবুল মনসুর জানান, ২০ এপ্রিল স্বাক্ষরিত মাধবী মারমার পদত্যাগপত্রের ফাইলটি আজ রোববার তার হাতে এসেছে। এখন নির্বাচন কমিশন শুনানির মাধ্যমে মাধবী মারমার প্রার্থিতা টিকবে কিনা, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
সময়ের আলো/আআ