ব্যাংকপাড়ায় এখন জোর আলোচনা আছে- আগের ব্যাংকখেকোরা কি আবার ফিরবে ব্যাংক খাতে। এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের ফেরা না ফেরা নিয়েও বেশ শোরগোল চলছে। কিছু দিন আগে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে হাজার হাজার লোক সমাগম ঘটিয়ে এক রকম মহড়াও দেওয়া হয়েছে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগের ব্যাংকখেকোদের ফেরানো নয়, পরিচ্ছন্ন উদ্যোক্তার খোঁজ চলছে দেশের ব্যাংক খাতে।
জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘ব্যাংক রেজুলেশন বিল, ২০২৬’-এর সবচেয়ে আলোচিত ও সমালোচিত দিক ১৮(ক) ধারা। এই ধারার মাধ্যমে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যাংকগুলোর পুরোনো মালিকদের পুনরায় ফেরার আইনি পথ তৈরি করা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকেও যেমন বলা হচ্ছে- এস আলমের মতো ব্যাংক লুটেরাদের আর ফেরার কোনো সুযোগ নেই বরং আগের পরিচালকদের মাঝে যারা ব্যাংক লুটের সঙ্গে জড়িত না তাদের ফেরার সুযোগ দেওয়া হবে। এরপর থেকেই দেশের ব্যাংকপাড়াতে পরিচ্ছন্ন উদ্যোক্তাদের বিষয়ে জোর আলোচনা চলছে।
অবশ্য অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংক খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে পরিচ্ছন্ন উদ্যোক্তার খোঁজ করা ভালো দিক। যেসব উদ্যোক্তা সৎ, দক্ষ এবং যাদের অতীতে ঋণখেলাপি বা আর্থিক অনিয়মের রেকর্ড নেই- এরকম উদ্যোক্তারা ব্যাংকিং খাতে আসলে ব্যাংক খাতের জন্য যেমন ইতিবাচক হবে, তেমনি দেশের অর্থনীতির জন্যও ভালো হবে। তবে পরিচ্ছন্ন উদ্যোক্তার মাপকাঠি কেমন হবে এবং কীভাবে তাদের চিহ্নিত করা হবে- সেটি বড় প্রশ্ন।
পরিচ্ছন্ন উদ্যোক্তার মাপকাঠি কেমন হবে- সে বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন সময়ের আলোকে বলেন, ‘ব্যাংক খাতের ভালো উদ্যোক্তা বলছে- যারা ব্যাংক থেকে নিয়ম-কানুন মেনে পরিচালক হন এবং নিয়ম মেনেই তার দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি যদি ব্যাংক থেকে ঋণও নেন কখনো সেটিও নিতে হবে নিয়ম-কানুনের মধ্য থেকেই এবং সময়মতো আবার ফেরতও দেবে নিয়ম মেনেই। ব্যাংক খাতের ভালো বা পরিচ্ছন্ন উদ্যোক্তা তারাই যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে বিদেশে পাচার করেনি, দেশে বিনিয়োগ করেছে, কর্মসংস্থান করেছে। আর্থিক ব্যবস্থাপনার এটিই সাধারণ নিয়ম। এই নিয়ম মেনে চললে কোনো সংকট হওয়ার কথা না।’
ফাহমিদা খাতুন আরও বলেন, ‘আমরাও শুনতে পাচ্ছি ব্যাংক খাতে পরিচ্ছন্ন উদ্যোক্তা আনার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সরকার যদি এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নেয়- সেটিতো অবশ্যই ভালো দিক। তবে কে ভালো, কে খারাপ- সেটি যেন যাচাই করে তবেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমরা চাই না, এই সরকার অতীত সরকারের মতো আবারো ব্যাংক খাত ব্যাংক লুটেরাদের হাতে তুলে দিক। তা ছাড়া বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তারা রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দেশের ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে, ব্যাংক খাতের অনেক সংস্কার করবে। সরকার সে সব প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
এদিকে দেশের ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা ও আস্থাহীনতার সংকট এখনও কাটেনি। বিগত আওয়ামী লীগ আমলে লাগামহীন অনিয়ম, ঋণখেলাপি ও লুটপাটের ফলে এই খাতে যে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে, তা এখনও পুরোপুরি নিরাময় হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কিছুটা স্থিতিশীলতার চেষ্টা করা হলেও কাক্সিক্ষত পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়নি।
এমন এক অনিশ্চিত প্রেক্ষাপটে দুই মাস আগে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। এ অল্প সময়ে পরিবর্তন বলতে কেবল গভর্নর বদল হয়েছে। এ ছাড়া আর তেমন কোনো বড় পরিবর্তন আসেনি। এ পরিস্থিতিতে সম্প্রতি ব্যাংক খাত সংস্কারের উদ্যোগ, বিশেষ করে ‘ব্যাংক রেজুলেশন অর্ডিন্যান্স ২০২৬’ পাস হওয়া এবং এর আওতায় পুরোনো মালিকানা কাঠামো ও সম্ভাব্য পুনর্বিন্যাস নিয়ে নতুন বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফলে ব্যাংক খাতের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্ন উদ্যোক্তার সংজ্ঞা এবং অতীতের বিতর্কিত গোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তন-সব মিলিয়ে এখন দেশের আর্থিক খাত নতুন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, নতুন পাস হওয়া ‘ব্যাংক রেজুলেশন বিল, ২০২৬’ অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক বিপর্যয়ে পড়লে সেটিকে ‘ব্রিজ ব্যাংক’ বানানো, ভালো ব্যাংকের কাছে বিক্রি করা বা নতুন মালিকানায় দেওয়ার সুযোগ আছে। এ ক্ষেত্রে সরকার হয়তো চাইছে যেন অসৎ বা খেলাপি গোষ্ঠীর হাতে ব্যাংক না যায়।
তাই শর্ত দেওয়া দরকার-যারা আসতে চান তাদের সব আর্থিক সহায়তা পরিশোধ, নতুন মূলধন বিনিয়োগ, আমানতকারীর দায় শোধ এবং সুশাসনের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা দিতে হবে। ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে খেলাপিরা টাকা ফেরত দিলেও মালিকানায় ফিরতে পারত না। নতুন আইনে শর্ত মেনে ফিরতে পারবে কিন্তু সেটা ‘পরিচ্ছন্ন’ হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত ত্রুটি ও নির্বাহী ব্যর্থতার কারণে স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়েছে। প্রায় ২০টি ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে। তাই সরকার চায়, নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা আসুক এমন উদ্যোক্তাদের হাত ধরে যারা ব্যাংককে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখবে। তবে সেটি কতটা করতে পারবে সেটিই দেখার বিষয়।
ড. জাহিদ হোসেন বলেন, অতীতে এস আলম, নাসা গ্রুপের মতো গোষ্ঠীর হাতে ব্যাংক যাওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। এখন নতুন এই সরকার হয়তো চাইছে-ব্যাংকের মালিকানা ও বোর্ডে আসুক ‘পরিচ্ছন্ন উদ্যোক্তা’, যাদের খেলাপির ইতিহাস নেই, যারা সুশাসন মানবে এবং ব্যাংককে ব্যবসার জায়গা হিসেবে চালাবে, লুটপাটের জায়গা হিসেবে না।
পরিচ্ছন্ন উদ্যোক্তা আনার ইঙ্গিত অর্থমন্ত্রীরও : অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ব্যাংক খাতে পরিচ্ছন্ন উদ্যোক্তার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ব্যাংক অর্ডিন্যান্সে যে সংশোধনটা হয়েছে তার মাধ্যমে আমরা এই উইন্ডোটা একটু ওপেন করেছি। এখানে কেউ ফিরে আসার জন্য না। টাকা ব্যাংকে জমা হোক-এটাই আমরা চাই। তাই এটা একটা নিউ অপরচুনিটি, নিউ উইন্ডো। এক্সিস্টিং শেয়ার হোল্ডার নিতে পারে, যেকোনো বিনিয়োগকারী নিতে পারেন। দিস উইন্ডো ইজ ওপেন ফর এভরিবডি।
ব্যাংক খাতে এস আলমের ফেরা প্রসঙ্গে অন্য এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএনপির অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় কোনো ব্যক্তির কোনো সুযোগ নেই। বিএনপি কোনো পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতিতে বিশ্বাস করে না। এটার প্রমাণ বারবার হয়েছে। তাই এবারও সেই সুযোগ নেই।
ব্যাংকপাড়ায় গুঞ্জন : ব্যাংকপাড়াতেও এখন পরিচ্ছন্ন উদ্যোক্তা খোঁজার গুঞ্জন চলছে। একাধিক ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্যাংকপাড়ায় এখন সবচেয়ে বেশি গুঞ্জন চলছে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে। ব্যাংকটি আবার এস আলমের দখলে চলে যাবে, না নতুন কোনো উদ্যোক্তার আগমন ঘটবে। মাত্র কয়েক দিন আগে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ব্যাপক শোডাউন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে কয়েক হাজার লোক এনে ঘেরাও করা হয় প্রধান কার্যালয়। এর বিপরীতে আরেকটি গ্রুপও সেদিন মহড়া দেয়। এরকম পরিস্থিতিতে ইসলামী ব্যাংকে অনিশ্চয়তাও বাড়ছে। জানা গেছে, এস আলমের ফেরার গুঞ্জনে অনেক গ্রাহক আমানত তুলে নিচ্ছেন ইসলামী ব্যাংক থেকে।
এর পাশাপাশি ব্যাংকপাড়ায় পরিচ্ছন্ন উদ্যোক্তার বিষয়টি নিয়েও জোর আলোচনা আছে। এ বিষয়ে একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে একটির শীর্ষ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সময়ের আলোকে বলেন, সংসদে ব্যাংক রেজুলেশন অর্ডিন্যান্স পাস হওয়ার পর থেকেই পুরো ব্যাংকপাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে- এস আলমসহ আগের অনেক বড় বড় ঋণখেলাপির ফেরার পথ খুলল কি না। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ করে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের পর আমাদের কাছে মেসেজ কিছুটা পরিষ্কার হয়েছে। আমরা মনে করছি, সরকার চাচ্ছে- ভালো উদ্যোক্তারা ব্যাংক খাতে ফিরুক।
আমরা যতটুকু জানতে পারছি, এক্সিম ব্যাংক এবং এসআইবিএলের আগের অনেক শেয়ারহোল্ডার আসতে চাচ্ছেন এবং তারা যোগাযোগ করছেন। তারা যদি আসলেই আসেন তা হলে ব্যাংক খাতের ইমেজ ভালো হবে। ঠিক একইভাবে ইউনাইটেড গ্রুপের মতো ভালো কিছু গ্রুপ আছে- যারা আসলে ব্যাংকের ফেসভ্যালু বাড়বে।
ব্যাংক খাতে এস আলমের ফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি মনে করি ব্যাংকিং খাতে এই মুহূর্তে এস আলমের স্বনামে ফেরার কোনো সুযোগ নেই, কারণ তার ফেসভ্যালু শতভাগ নেগেটিভ। এই উদ্যোক্তা যে ব্যাংকে ফিরবেন সে ব্যাংকে গ্রাহকরা আর কোনো ডিপোজিট রখবেন না। কারণ এস আলম ব্যাংকিং খাতে এক অভিশপ্ত নাম। এ ছাড়া এস আলমের শেয়ার ব্লক করা আছে। তাই নিজের নামে ঢোকার কোনো সুযোগ নেই।
শুধু তাই নয়, সাড়ে ৭ শতাংশ হারে ১০-১২ হাজার কোটি টাকা আগে দিয়ে ব্যাংকে ফিরে আসবে- এটাও আসা সম্ভব না। এর চেয়ে তাদের নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্লক অ্যাকাউন্ট খুলে ব্যবসা চালু করতে পারে। এস আলম নামে বা বেনামে যদি ইসলামী ব্যাংকে ঢোকে তা হলে এই ব্যাংকের রেমিট্যান্স ও আমানতে ধস নামবে।
এ জন্য সরকারও ঝুঁকি নেবে না এস আলমকে ফেরাতে। ইসলামী ব্যাংক দেশের বেসরকারি খাতের সর্ববৃহৎ ব্যাংক, এই ব্যাংক যদি এখন আবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা হলে দেশের পুরো ব্যাংক খাতই ধসে পড়তে পারে। এ ছাড়া ব্যাংক খাত আবার ধসে পড়ুক নতুন সরকারও আশা করি সেটা চাইবে না।
পাস হওয়া নতুন আইনের আওতায় একীভূত হওয়া বা একীভূতকরণের তালিকায় থাকা ব্যাংকগুলোর সাবেক পরিচালক বা মালিকরা সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিনিয়োগ করা অর্থের মাত্র সাড়ে ৭ শতাংশ অগ্রিম পরিশোধ করে ব্যাংকের মালিকানা ফিরে পেতে পারেন। বাকি ৯২.৫ শতাংশ অর্থ ১০ শতাংশ সরল সুদে দুই বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এই আইনের প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগী কারা হতে পারেন, তা নিয়ে ব্যাংকপাড়ায় এখন প্রকাশ্য আলোচনা চলছে।
গত বছর শরিয়াহভিত্তিক ৫টি ব্যাংক- এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়েছিল। এই পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে চারটির বোর্ডে বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমের আধিপত্য ছিল। অন্যদিকে এক্সিম ব্যাংক দীর্ঘকাল ধরে নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, সাবেক মালিকরা ফিরে আসলে ব্যাংকগুলো কীভাবে পরিচালিত হবে এবং আমানতকারীরা তাদের টাকা ফেরত পাবেন কি না, তা নিয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হবে। তাদের মতে, আগের মালিকরা ফিরে এসে সঠিকভাবে ব্যাংক চালাতে পারবেন কি না এবং আইন ও বিধিনিষেধ মেনে চলবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এ ছাড়া ওই মালিকদের ফিরে আসা চলমান একীভূতকরণ প্রক্রিয়াকেও বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মূখপাত্র আরিফ হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন উদ্যোক্তা যখন আসে তখন তার অতীত আমরা দেখব। পরিচালক হয়ে আসার কারও প্রস্তাব এলে তার সম্পর্কে আমরা তখন খোঁজ-খবর নেব। যদি কারও সম্পর্কে কোনো দোষ-ত্রুটি খুঁজে পায় বা প্রমাণ মেলে তখন তার সম্পর্কে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আপত্তি থাকবে। কারও সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক কিছু না পাওয়া গেলে তার বিষয়ে কোনো আপত্তি করে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তা ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক কখনো কোনো নতুন উদ্যোক্তাকে খুঁজে আনবে না, কেউ আগ্রহ নিয়ে কোনো ব্যাংকের পরিচালক হতে আসলে তখন তার সম্পর্কে আমরা খোঁজ-খবর নিই।’