তালের রস বেচে পার ৫২ বছর

এহসানুল হোসেন তাইফুর, কেশবপুর (যশোর)

সারাদেশ

যশোরের কেশবপুরে টানা ৫২ বছর তালগাছ অবলম্বন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন সাখাওয়াত হোসেন। তালগাছের সঙ্গে তার এ জীবনসংগ্রাম এলাকার মানুষকে

2026-04-27T03:22:57+00:00
2026-04-27T03:22:57+00:00
 
  বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬,
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
তালের রস বেচে পার ৫২ বছর
এহসানুল হোসেন তাইফুর, কেশবপুর (যশোর)
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২২ এএম 
১৪ বছর বয়স থেকে তালগাছের রস সংগ্রহ শুরু করেন কেশবপুরের সাখাওয়াত হোসেন। ছবি : সময়ের আলো
যশোরের কেশবপুরে টানা ৫২ বছর তালগাছ অবলম্বন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন সাখাওয়াত হোসেন। তালগাছের সঙ্গে তার এ জীবনসংগ্রাম এলাকার মানুষকে ভীষণ প্রভাবিত করছে। তাদের ভাষ্য মতে, গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক বিরল দৃষ্টান্ত সাখাওয়াত হোসেন। তার বয়স এখন ৬৬ বছর। ১৪ বছর বয়স থেকে তিনি তালগাছের মোচা (জটা) কেটে রস সংগ্রহ শুরু করেন। তার বাড়ি কেশবপুর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামে।

 প্রতি বছর তিনি ১২ থেকে ১৫টি তালগাছ থেকে রস আহরণ করে থাকেন। দীর্ঘ ৫২ বছরের রস সংগ্রহের মৌসুমে এক দিনও তিনি গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে বিরত থাকেননি। তালের রস কাঁচা বিক্রি করেই তার সংসারে ফিরেছে সচ্ছলতা। প্রতিদিন সকাল-বিকাল শত শত মানুষ তার গাছতলায় রস খেতে ভিড় করে। উপজেলার বায়সা-শ্রীরামপুর সড়কের পাশে এ বছর তিনি ১২টি তালগাছ থেকে রস সংগ্রহ করেছেন। ৫২ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে কখন, কীভাবে গাছের মোচা কাটলে রস সুস্বাদু হবে- তা তার জানা রয়েছে। 

তার কথায়, তালগাছের জটা কাটা, ভাড় পোড়ানো ও ভাড়ে চুন লাগানোর জন্য অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়। এ তিনটি কাজ যে গাছি বোঝে তার রস নষ্ট হয় না। এই কাজে আমার ছেলে ফজর আলী সহযোগিতা করে থাকে। প্রতি গ্লাস কাঁচা রস আমি ১০ টাকায় বিক্রি করি। রস খেতে সব বয়সি মানুষ গাছতলায় ভিড় করে। 

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সাখাওয়াত হোসেনের মতো অভিজ্ঞ গাছিরা আমাদের লোকজ ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। ৫২ বছর ধরে তার এই নিষ্ঠা সত্যিই প্রশংসনীয়। তার জীবনে এ সংগ্রাম গ্রামীণ অর্থনীতিতে অন্যদেরও প্রভাবিত করছে।

তালের রস খেতে আসা বেলকাটি গ্রামের আব্দুর রশীদ বলেন, সাখাওয়াত হোসেনের তালের রসের সুনাম এর আগে বহুবার শুনেছি। গত বছর রস খেয়েছি, এবারও খেতে এসে মুগ্ধ হয়েছি। পরিবারের জন্যও বোতলে নিয়ে যাচ্ছি। রস খুবই সুস্বাদু লেগেছে। 

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক আব্দুল খালেক বলেন, সাখাওয়াত হোসেনের দীর্ঘ বছর তালগাছ আহরণ, গুড় ও পাটালি তৈরি গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতিতে সাড়া ফেলেছে। পাশাপাশি গ্রামের মানুষদের অর্থনৈতিকভাবেও তার ওই কাজ উৎসাহিত করে তুলছে।

সময়ের আলো/কেএইচও


  বিষয়:   তালের রস 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: