হকিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রথমবার এশিয়ান গেমস হকির বাছাইপর্বে অংশ নিয়ে চূড়ান্তপর্ব নিশ্চিত করেছে জাহিদ হোসেন রাজুর দল। অর্পিতা পাল, তন্বী, নাদিরা, এমাদের সামনে সমীকরণ ছিল পরিষ্কার। হংকং চায়নাকে হারাতে পারলে সেমিফাইনালে উঠবে দল। এমন ম্যাচে হতাশ করেনি অর্পিতার দল।
হংকংকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। এবারই প্রথম এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়েছে মেয়েরা। ইন্দোনেশিয়ার মাটিতে দুর্দান্ত খেলে জাপানের টিকেট নিশ্চিত করেছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে জাপানে মূলপর্ব অনুষ্ঠিত হবে। বাছাইপর্বের সেরা ছয় দল পাবে চূড়ান্তপর্বে খেলার সুযোগ। সেমিফাইনালে ওঠার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এখন সেরা ৪ দলের একটি। সামনে সুযোগ আছে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি জেতারও।
হকির এমন সাফল্য দারুণ খুশি মেয়েদের কোচ জাহিদ হোসেন রাজু। ইন্দোনেশিয়া থেকে মোবাইল ফোনে সময়ের আলোকে তিনি জানান, আমি মেয়েদের পারফরম্যান্সে ভীষণ আনন্দিত, ‘একই সঙ্গে বিস্মিত। তারা প্রতিটি ম্যাচেই উন্নতি ছাপ রেখে যাচ্ছে। শুরুটা করেছে চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে। পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে ড্র করেছে।
এরপর উজবেকিস্তানের হারানোর পর আজ (গতকাল) হংকং চায়নাকে পরাজিত করেছে। ম্যাচের আগে যেভাবে তাদের পরিকল্পনা সাজিয়ে দিয়েছি, তারা মাঠে নেমে অক্ষরে অক্ষরে তা পালন করেছে। সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে। এবার আমাদের লক্ষ্য ফাইনাল। আশা করি মেয়েরা যেভাবে খেলছে, তাতে ফাইনালে ওঠা অসম্ভব কিছু নয়।’
কোচ রাজু ভুল কিছু বলেননি। মাত্র দুই মাসের অনুশীলনে এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরে জায়গা করে নেওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। তার ওপর প্রথমবার খেলতে গিয়ে। অর্পিতারা সত্যিই সবার মন জয় করে চলেছেন। অথচ এই বাছাইপর্বেই বাংলাদেশের ছেলেরা কদিন আগে বাজে পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে।
চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলেও, সেমিফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে। পঞ্চম স্থানে থেকে এশিয়ান গেমসের মূলপর্বে খেলার সুযোগ পেয়েছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশের মেয়ে হকি দল অনন্য-অসাধারণ পারফরম্যান্স করে চলেছে। ১৯৭৮ সাল থেকে এশিয়ান গেমস হকিতে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। এতদিন ওই আসরে কেবল পুরুষ দলই লাল-সবুজদের প্রতিনিধিত্ব করেছে, এবার সেখানে মেয়েরা যুক্ত হয়ে ইতিহাস রচনা করল।
গতকাল হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম মিনিটেই গোল খেয়ে বসে রাজুর শিষ্যরা। তবে সমতায় ফিরতে সময় নেয়নি। ১০ মিনিট খেলায় সমতা আনে নাদিরা এমা। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে দুই দলের কেউ গোল করতে পারেনি। তৃতীয় কোয়ার্টারে কনার গোলে গোলে লিড নেয় বাংলাদেশ। এমার বাড়িয়ে দেওয়া বল হংকংয়ের গোলরক্ষক আটকানোর চেষ্টা করে সফল হননি।
গোলরক্ষকের সামনে পড়া বল স্টিক দিয়ে দারুণ দক্ষতায় গোল করেন কনা। বাংলাদেশ এই কোয়ার্টারে আরো পেনাল্টি কর্নার পেয়েও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি। শেষ কোয়ার্টারে দুই দলই গোলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। বাংলাদেশে হকির ইতিহাস পুরোনো হলেও নারী হকির কোনো সিনিয়র জাতীয় দল ছিল না। এবারই হকি ফেডারেশন সিনিয়র জাতীয় দল গঠন করে। বিকেএসপির নারী খেলোয়াড়রাই মূলত এই দলে খেলছে। ৪ জন খেলোয়াড় শুধু বিকেএসপির বাইরের। প্রথমবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অংশ নিয়েই বাজিমাত করল মেয়েরা।
/কেএইচও