মেঘনা পাড়ে রাসেল ভাইপার আতঙ্ক, কামড়ের পরও সাপ ধরে বাড়িতে যুবক

চাঁদপুর প্রতিনিধি

সারাদেশ

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় আবারও ভয়ংকর বিষধর রাসেল ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) সাপকে ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এবার মেঘনা নদীর পাড় থেকে

2026-04-27T22:04:05+00:00
2026-04-27T22:04:05+00:00
 
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
মেঘনা পাড়ে রাসেল ভাইপার আতঙ্ক, কামড়ের পরও সাপ ধরে বাড়িতে যুবক
চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০৪ পিএম 
সাপের কামড়ে আহত মো. সোহেল। ছবি : সময়ের আলো
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় আবারও ভয়ংকর বিষধর রাসেল ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) সাপকে ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এবার মেঘনা নদীর পাড় থেকে সাপ উদ্ধারের সময় এক যুবক কামড় খেয়ে আহত হয়েছেন। পরে কামড়ের পরও তিনি সাপটিকে ধরে পলিথিন ব্যাগে ভরে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

সোমবার (২৮ এপ্রিল) সকালে উপজেলার এখলাসপুর ইউনিয়নের এখলাসপুর আবাসন এলাকার মেঘনা নদীর পাড়ে ঘটনাটি ঘটে। আহত যুবক মো. সোহেল (৩১)। তিনি একই এলাকার সেলিম প্রধানের ছেলে। 

তিনি জানান, সকালে নতুন বাড়িতে যাওয়ার পথে মেঘনা নদীর পাড়ে একটি জালে বড় আকৃতির রাসেল ভাইপার সাপ আটকে থাকতে দেখেন। সাপটি তখন ছটফট করছিল। জাল থেকে ছাড়াতে গেলে হঠাৎ সাপটি তার হাতে কামড় দেয়।

কামড়ের পরও তিনি সাহস করে সাপটিকে ধরে পলিথিন ব্যাগে ভরে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে সেটি প্লাস্টিকের বয়ামে সংরক্ষণ করে দ্রুত চাঁদপুর সদর হাসপাতালে গিয়ে অ্যান্টিভেনম নেন। চিকিৎসা শেষে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক বছর ধরে মেঘনা নদীর পাড় ও চরাঞ্চল বিশেষ করে বোরচর, চর উমেদ ও এখলাসপুর এলাকায় বিষধর সাপের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত বছরও এখলাসপুর নদীর পাড়ে কয়েকটি রাসেল ভাইপার মারা হয়েছিল। অনেক সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটার ভ্যাকসিন না থাকায় রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। দ্রুত পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে এখলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালী বলেন, খবরটি আমি পেয়েছি। সামনে বর্ষা মৌসুম, তাই কৃষক ও জেলে ভাইদের আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। যদি কাউকে সাপে কামড় দেয়, তাহলে কোনো ধরনের ঝাড়ফুঁক নয় তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হবে। 

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহবুবুর রহমান বলেন, আমাদের হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিভেনম রয়েছে। একজন সাপে কাটা রোগীকে প্রথম ধাপে ১০টি ভেনম দিতে হয়। প্রয়োজনে আরও ১০টি দেওয়া হয়। প্রতিটি ভেনমের দাম প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা। আমরা বর্তমানে প্রায় ২০০টি ভ্যাকসিন সংগ্রহ করেছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, উপজেলা পরিষদ থেকে সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ভ্যাকসিন কেনার লক্ষ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, এই ভ্যাকসিন আগামী দুই বছরেও শেষ হবে না।এছাড়া উদ্ধার হওয়া রাসেল ভাইপার সাপটির বিষয়ে বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এএডি/


  বিষয়:   মেঘনা  রাসেল ভাইপার  আতঙ্ক  কামড়  সাপ  বাড়ি  যুবক 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: