দক্ষিণ লেবাননের মাজদাল জউন শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৫ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) পরপর দুই দফা চালানো এই হামলায় নিহতদের মধ্যে তিন জন সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকর্মী রয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রথম দফার হামলার পর আহতদের উদ্ধার করতে গেলে দ্বিতীয় দফায় আবারও হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম এই ঘটনাকে জঘন্য অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, মানবিক দায়িত্ব পালনের সময় উদ্ধারকর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো যুদ্ধাপরাধের শামিল। এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক মহলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলতে বাধ্য করার আহ্বান জানান।
দেশটির সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্বিতীয় দফার হামলার পর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছিলেন। পরবর্তীতে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের টহল দল ওই উদ্ধার অভিযানের সঙ্গে থাকাকালীন হামলায় দুই সেনাসদস্য আহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকলেও লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে। এর জবাবে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকেও ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে রকেট ও ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এক বিবৃতিতে বলেছেন, উদ্ধারকর্মী ও চিকিৎসকদের ওপর এ ধরনের ধারাবাহিক হামলা প্রমাণ করে যে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশনের তোয়াক্কা করছে না। হিউম্যান রাইটস ওয়াচও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ইসরায়েলের ওপর সামরিক নিষেধাজ্ঞা ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার লেবাবননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের পর থেকে এ পর্যন্ত লেবাননে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ৫৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৭ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ।
/কহু